প্রকৃতিতে শীতের হাতছানি। রাত নামলেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো ক্যাম্পাস। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে অতিথি পাখির আনাগোনা। পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এবছর একটু দেরিতে হলেও গত পরশু থেকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংলগ্ন লেকে প্রায় দুই শতাধিক অতিথি পাখি এসেছে। পাখি দেখতে নিয়মিত ভিড় করছেন দর্শণার্থীরা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় কম পাখি আসায় হতাশা প্রকাশ করেন তারা।
জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে অতিথি পাখি আসা শুরু করে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ জলাশয় পরিণত হয় অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক অতিথি পাখি তুষারপাতের ফলে সাইবেরিয়া, চীনের জিনজিয়াং, মঙ্গোলিয়া, নেপাল হতে আসে বলে জানা যায়।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান চ্যানেল আইকে বলেন, ‘অন্যান্য বছরে সেপ্টেম্বরে পাখি আসলেও এবছর এখন পর্যন্ত অল্প সংখ্যক কিছু প্রজাতির পাখি এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও শীত কম থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। তবে আমরা আশাবাদী শীত বাড়লে অতিথি পাখি চলে আসবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি আসে। গতবছর এই সময়ে ১২৬টি দেশি ও ৬৯টি বিদেশি প্রজাতির প্রায় সাত হাজারের উপরে অতিথি ও পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। যা গত দুই দশকে সর্বোচ্চ ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাখির প্রজাতিগুলো মধ্যে নাকতাহাঁস, খুনতেহাঁস, জিরিয়াহাঁস, ভুতিহাঁস, লেঞ্জাহাঁস, আফ্রিকান কম্বডাক, ছোট সরালি, বড় সরালি, পাতারিহাঁস, গ্রেটার স্টর্ক, ফুলুরিহাঁস এবং ইউরেশিয় সিঁথিহাঁস, গারগেনি, রাইনেক, খঞ্জনা, টাইগা, শামুক খোল, জলপিপি, ডাহুক উল্লেখযোগ্য হারে দেখা যায়।









