দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (বিআইএফএফ) প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়েছে ১৪টি সিনেমা। এর মধ্যে ১২টি সিনেমারই হবে বিশ্ব প্রিমিয়ার।
প্রতিযোগিতায় থাকছেন ইরানের খ্যাতিমান নির্মাতা মাজিদ মাজিদি, জাপানের হিরোসে নানাকো, ইন্দোনেশিয়ার ইউসেপ অ্যাঙ্গি নোয়েনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আলোচিত নির্মাতারা।
১ সেপ্টেম্বর উৎসব কর্তৃপক্ষ এবারের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২০১৯ সালের পর এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগকে উৎসবের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৪টি সিনেমার মধ্যে চারটি সিনেমা নির্মাতার ডেব্যু হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে কোরিয়ার নবাগত নির্মাতা লিম হায়েয়নের ‘বিচ ফিকশনস’, জাপানের হিরোসে নানাকোর ‘বিটুইন টু লাভার্স’ এবং মাজিদ মাজিদির ‘মিডডে মিল’। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার চলচ্চিত্রশিল্পের সাম্প্রতিক উত্থানের প্রতিনিধিত্ব করছে এডি কাহিওনোর ‘ইবুকু’ ও ইউসেপ অ্যাঙ্গি নোয়েনের ‘দ্য সি স্পিকস হিজ নেম’।
উজবেকিস্তানের নির্মাতা বটির আবদুরাখমানভের প্রথম সিনেমা ‘হিলোল’ এবং কোরিয়ার ইউম কিউবকের ‘লং লং নাইট’ও রয়েছে প্রতিযোগিতার তালিকায়।
প্রতিযোগিতায় যে ১৪ সিনেমা
বিচ ফিকশনস: লিম হায়েয়ন (দক্ষিণ কোরিয়া), প্রথম সিনেমা
বিটুইন টু লাভার্স: হিরোসে নানাকো (জাপান)
দ্য ডে আফটার সানডে: কাতো তাকুয়া (জাপান-ফ্রান্স)
ডিসেন্ড্যান্টস: চেন জিওয়েন (চীন)
দ্য ফার্স্ট টেস্ট অব লোনলিনেস : গু ইউ (চীন)
হিলোল: বটির আবদুরাখমানভ (উজবেকিস্তান), প্রথম সিনেমা
ইবুকু : এডি কাহিওনো (ইন্দোনেশিয়া-জাপান)
লং লং নাইট: ইউম কিউবক (দক্ষিণ কোরিয়া), প্রথম সিনেমা
মিডডে মিল: মাজিদ মাজিদি (ইরান)
সাতোকো অলওয়েজ: ওকিতা শুইচি (জাপান)
দ্য সি স্পিকস হিজ নে: ইউসেপ অ্যাঙ্গি নোয়েন (ইন্দোনেশিয়া)
শেভিং: কিম জং-হুন (দক্ষিণ কোরিয়া)
সিলভার এক্সপ্রেস: তানাকা মিকি (জাপান), প্রথম সিনেমা
টু বি অর্ডিনারি: লি ইউন চান (তাইওয়ান)
‘এ-লিস্ট’ স্বীকৃতি পেল বুসান চলচ্চিত্র উৎসব
এবারের বুসান চলচ্চিত্র উৎসব আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব ফিল্ম প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনস (FIAPF) উৎসবটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এ-লিস্ট ফেস্টিভ্যাল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে কান, বার্লিন, ভেনিস, সানড্যান্স ও টরন্টোর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের কাতারে যুক্ত হলো বুসান।
এর সঙ্গে এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বুসান অ্যাওয়ার্ড: বেস্ট ফিল্ম’ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাটি অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জমা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
ম্যাগি গিলেনহাল-মিশেল ইয়োসহ তারকাদের উপস্থিতি
এবারের উৎসবে থাকছে আন্তর্জাতিক তারকাদের জমজমাট উপস্থিতিও। অভিনেত্রী ম্যাগি গিলেনহাল তার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্লেশ ইমপ্যাক্ট’ নিয়ে উৎসবে উপস্থিত থাকবেন। মেরিলিন মনরোর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত সিনেমাটি বিশেষ প্রদর্শনীতে দেখানো হবে। পাশাপাশি মনরোর বিখ্যাত ‘বাস স্টপ’ সিনেমাটিও প্রদর্শিত হবে।
অভিনেত্রী মিশেল ইয়োকে এবারের উৎসবে ‘এশিয়ান ফিল্মমেকার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা দেওয়া হবে। হংকংয়ের নির্মাতা অ্যান হুই পাবেন ‘ক্যামেলিয়া অ্যাওয়ার্ড’। কোরিয়ান সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং বুসান উৎসবের সহপ্রতিষ্ঠাতা কিম ডং-হো পাবেন ‘কোরিয়ান সিনেমা অ্যাওয়ার্ড’।
উৎসবে আরও উপস্থিত থাকবেন ফরাসি অভিনেত্রী ইসাবেল হুপার্ট, ফিলিপাইনের নির্মাতা লাভ দিয়াজ, ইন্দোনেশিয়ার অভিনেত্রী ক্রিস্টিন হাকিম এবং জাপানের অ্যানিমেশন মাস্টার রিনতারো।
২৪৬ সিনেমার বিশাল আয়োজন
এবার বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মোট ২৪৬টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে, যা আগের আসরের তুলনায় পাঁচটি বেশি। ২০১৯ সালের পর এটিই উৎসবটির সবচেয়ে বড় আয়োজন।
উৎসব শুরু হবে আগামী ৬ অক্টোবর। এবারের উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে বিশ্ব প্রিমিয়ার হবে কিম জং-কোয়ানের ‘দ্য টেবিল: ডে অ্যান্ড নাইট’। সিনেমাটিতে একটি ক্যাফেকে কেন্দ্র করে চার জোড়া মানুষের প্রেম ও সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
উৎসবের অন্যান্য বিভাগেও থাকছে উল্লেখযোগ্য আয়োজন। ‘ভিশন কোরিয়া’ বিভাগে ১২টি এবং ‘ভিশন এশিয়া’ বিভাগে ১১টি সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। ‘অন স্ক্রিন’ বিভাগে থাকছে নেটফ্লিক্স ও ডিজনি প্লাসের তিনটি সিরিজ।
এছাড়া কোরিয়ান অভিনেতা আন সাং-গির চলচ্চিত্রজীবন নিয়ে বিশেষ আয়োজন, জাপানি অ্যানিমেশনকে ঘিরে বিশেষ বিভাগ এবং এশিয়ান কনটেন্ট অ্যান্ড ফিল্ম মার্কেটের নানা আয়োজনও থাকছে। ডেডলাইন









