এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিতের নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। নীতিটি বাতিল করে আদালত বলেছে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের বিচারক জ্যেনেট ভার্গাস এ রায় দেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নীতিটি স্পষ্টতই বেআইনি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিচারক তার রায়ে বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা বিদ্যমান আইনগত কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
এর মধ্যে লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া; দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশ ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তখন যুক্তি দিয়েছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন। তার প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক বেশ কয়েকটি বিধিনিষেধের একটি। এর আগে ১ জানুয়ারি থেকে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরও বিস্তৃত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।
অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং কয়েকজন অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করা মামলার পর এ রায় আসে।
বিচারক জ্যেনেট ভার্গাস সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক।
অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্ণভিত্তিক বৈষম্যমূলক নজরদারি বা প্রোফাইলিং নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে আদালতের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।









