এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে থাকলেও ইরান এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি। তাই এই মুহূর্তেই যুদ্ধের অবসান ঘটানো ভালো।
তিনি আরও বলেন, পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনেই দেশটির প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ। এর মধ্যেই পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী সমালোচকদের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। সমালোচকরা দাবি করেছিলেন, জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিয়েছে।
তবে পেজেশকিয়ান বলেন, এই চুক্তিতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেয় এমন একটি ধারাও তারা খুঁজে পাবে না। সব প্রতিশ্রুতিই অন্য পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।
সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, নতুন কোনো হুমকি এলে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।
ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, বিমান প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের। শত্রুপক্ষের নতুন হুমকির জবাব শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এদিকে শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও আলোচনা পুনরায় শুরুর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পরিস্থিতি নিয়ে তারা আলোচনা করেন।
ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের গোপন বহর পরিচালনা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প সীমিত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এর মানে হলো আমরা দেখছি কী ঘটে।’
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি সংশ্লিষ্ট পুরো অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার আওতায় স্থলভাগের বড় অংশও রয়েছে। ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, তবে তার মতে, তারা এখনো সঠিক চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয়।
ইরানকে যেকোনো ধরনের লাইফলাইন বা টিকে থাকার সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরান সরকারকে ধসিয়ে দেবে ওয়াশিংটন।
সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বেসেন্ট। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে। যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়ানোর সময় ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে মার্কিন পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করেছে এবং নিষেধাজ্ঞার উদ্যোক্তাদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
চীনও মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।









