ইসলামে তাওয়াক্কুল বলতে বোঝায় আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চেষ্টা করা।
এটি নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকার নাম নয়, বরং একজন মুমিন যথাসাধ্য উদ্যোগ নেওয়ার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে সোপর্দ করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন: “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।”— সূরা আত-তালাক, ৬৫: ৩
এই আয়াত তাওয়াক্কুলের মূল ভিত্তি তুলে ধরে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা একজন মুমিনের অন্তরের বিশ্বাসের অংশ। তবে তাওয়াক্কুলের সঙ্গে চেষ্টা ও ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনে আল্লাহ বলেন: “অতঃপর যখন তুমি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো, তখন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।”— সূরা আলে ইমরান, ৩: ১৫৯
এখানে প্রথমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এরপর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামী দৃষ্টিতে ভরসা মানে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়।
রাসুলুল্লাহ -ও তাওয়াক্কুলের সঙ্গে বাস্তব ব্যবস্থা গ্রহণের শিক্ষা দিয়েছেন। এক সাহাবি তাঁর উটটি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন: “তাকে বেঁধে রাখো এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো।” — জামে আত-তিরমিজি, ২৫১৭
এই হাদিসটি তাওয়াক্কুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি বোঝায়: আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, তারপর আল্লাহর ওপর নির্ভরতা।তাওয়াক্কুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষ নিজের ইচ্ছাকে চূড়ান্ত সত্য মনে করবে না।
কারণ মানুষ জানে না কোন বিষয় তার জন্য প্রকৃতপক্ষে কল্যাণকর। আল্লাহ বলেন: “হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ কর অথচ তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে, আবার হতে পারে, তোমরা কোনো বিষয়কে পছন্দ কর অথচ তাতে তোমাদের জন্য অকল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।” — সূরা আল-বাকারা, ২:২১৬
তাই কোনো দোয়ার ফল নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলেও একজন মুমিন আল্লাহর হিকমাহর ওপর বিশ্বাস রাখেন। এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ দোয়া বা চেষ্টা ছেড়ে দেবে। বরং সে দোয়া করবে, বৈধ উপায়ে চেষ্টা করবে এবং ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখবে।
কুরআনে আরও এসেছে: “মুমিন তো তারাই, যখন আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় তখন তাদের হৃদয় কেঁপে ওঠে… এবং তারা তাদের রবের ওপরই তাওয়াক্কুল করে।” — সূরা আল-আনফাল, ৮: ২
অতএব, তাওয়াক্কুল হলো বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার সমন্বয়। একজন মুসলিম নিজের সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, কিন্তু ফলাফলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে মনে করবেন না। সাফল্য এলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন, আর প্রত্যাশিত ফল না এলে ধৈর্য ধরবেন ও আল্লাহর ওপর আস্থা রাখবেন।









