মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রিসে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত এবং ৮৫ জন আহত হয়েছে। তবে কয়েক দশকের মধ্যে গ্রিসে সবচেয়ে মারাত্মক এই রেল দুর্ঘটনার কারণ এখনও অস্পষ্ট।
গ্রিসের থেসালি অঞ্চলের গভর্নর বলেছেন, এথেন্স থেকে উত্তরের শহর থেসালোনিকিতে যাত্রা করা একটি আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন মধ্য গ্রিসের লারিসা শহরের বাইরে একটি পণ্যবাহী ট্রেনের সাথে তীব্র গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটে। সংঘর্ষে ট্রেনে আগুন ধরে যায় এবং যাত্রীবাহী বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যায়।
স্টেরজিওস মিনেনিস নামে ২৮ বছর বয়সী একজন যাত্রী যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা একটি ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম এবং এটি ছিল দুঃস্বপ্নের মত দশটি সেকেন্ড।
তিনি আরও বলেন, আমরা একপাশে আছড়ে পড়ার আগে পর্যন্ত বগির মধ্যে উল্টে যাচ্ছিলাম। তারপর আতঙ্ক, সর্বত্র আগুন। আগুন এতটাই তাৎক্ষণিক ছিল যে, আমরা যখন উল্টে যাচ্ছিলাম তখন আমাদের শরীর পুড়ে যাচ্ছিল, ডানে বাম সবদিকেই ছিল আগুন।
থেসালির আঞ্চলিক গভর্নর কনস্টান্টিনোস অ্যাগোরাস্টোস এসকেএআই টিভিকে বলেছেন, দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী ট্রেনের প্রথম চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে এবং প্রথম দুই বগি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, দুটি ট্রেন একই লাইনে ছিল এবং পূর্ণ গতিতে একে অপরের দিকে এসে মুখোমুখী ধাক্কা দিয়েছে।
ট্রেন দুটি দুর্দান্ত গতিতে ছুটছিল এবং চালকরা জানত না যে অপরদিক থেকে আরেকটি ট্রেন আসছে।
প্রায় ২৫০ জন যাত্রীকে বাসে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন থেকে পাশের একটি ব্রিজে সরিয়ে নেওয়া এক যুবক গ্রিসের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইআরটিকে বলেন, বগিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, লোকেরা চিৎকার করছিল। অন্য এক যাত্রী অ্যাঞ্জেলোস সিমাউরাস ইআরটি-কে বলেছেন, এটি ছিল ভূমিকম্পের মতো।
এসকেএআই টেলিভিশন দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনর ফুটেজ দেখিয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ভাঙা জানালা দিয়ে ধোঁয়ার ঘন কুন্ডলী সেইসাথে রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ। এছাড়া উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংস হওয়া বগিতে টর্চ নিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের খোঁজ করতে দেখা গেছে।









