বিশেষজ্ঞরা বলেন, শৃঙ্খলিত হতে পারলে শচীন টেন্ডুলকারের মতো তারকা হতে পারতেন বিনোদ কাম্বলি। কিন্তু, ওই একটা জায়গায় বরাবরই খাপছাড়া ভারত জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার। মদ্যপান, নারী সঙ্গ, বিলাসিতা সহ এহেন বিতর্কিত কাণ্ড নেই যা তিনি ঘটাননি। ধ্রবতারার মতো উত্থান হওয়া কাম্বলির উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনই ঘটিয়েছে উল্কাপাতের মতো পতন।
ভারতের ক্রিকেট যাকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখেছিল সেই বিনোদ জীবনের ৫০ বছর পেরিয়ে এখন বর্তমানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যস্ত। আর্থিক কষ্টে ভুগছেন—এমন অনেকবার বলেছেন তিনি। বন্ধু ও জাতীয় দলের সতীর্থ টেন্ডুলকারের থেকেও নিয়েছেন সাহায্য। তবে সব কিছুই শেষ হয়েছে মদের পেছনে। জাতীয় দলের সেই পতনের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেননি। একটা চাকরি পেলে দীর্ঘদিনের শত্রু ‘মদ্যপানটা’ ছেড়ে দিবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাম্বলি। সেই সুযোগও পেতে যাচ্ছেন তিনি।
ভারতের ক্রিকেট বোর্ড থেকে পাওয়া অর্থে নিজের সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন কাম্বলি। কিন্তু বর্ধিত সংসার আর মূল্যবৃদ্ধির বাজারে আর সমন্বয় করতে পারছেন না ভারতের সর্বকনিষ্ট ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। বোর্ডের পেনশনে এখন আর সংসার চলছে না তাই চেষ্টা করছে একটা চাকরি জুটিয়ে নেওয়ার।
সম্প্রতি ভারতের গণমাধ্যম মিড-ডে কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাম্বলি নিজের অবস্থার কথা জানিয়েছেন, ‘আমি মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) কাছে সাহায্যের জন্য গিয়েছিলাম। পরিবারকেও আমার দেখতে হয়। আমি অনেকবার এমসিএকে বলেছি, যদি আপনাদের আমাকে প্রয়োজন হয় আমি সবসময় কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। সেটা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হোক কিংবা বিকেসিতে। মুম্বাই ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমার জীবনে যা কিছু রয়েছে সবকিছুর জন্য এই খেলাটার কাছেই ঋণী।’

খেলোয়াড়ি জীবন থেকে বর্তমান সময়— সবখানেই কাম্বলির বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল তার মদ্যপানের বাজে অভ্যাস। সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড়ের উত্থানের পর দলে নিজের জায়গা হারায় কাম্বলি। এরপর যেখানে গিয়েছেন সেখানে থেকেই ছিটকে গেছেন এই নেশার কারণে। মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাকে সাহায্য করতে পারেনি মদ্যপ হওয়ার কারণেই।
বোর্ডের এক সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ২০২১ সালের এক মিটিংয়ে এমসিএ একটি জেনারেল ম্যানেজারের পদ তৈরি করে। কাম্বলি বোর্ডের সাহায্য চাওয়ার প্রেক্ষিতেই এই পদ আনে বোর্ড। কিন্তু তখন ঝামেলা বাধায় খোদ কাম্বলি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় তার মদপানের ভিডিও। সেই কারণে চাকরিটাও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি তার।
এবার তাই আগেভাগেই কাম্বলি জানিয়ে দিয়েছেন, একটা চাকরি জুটাতে পারলে মদ পানই ছেড়ে দিবেন তিনি। কিন্তু বোর্ড কি তাকে আবারও একবার সুযোগ করে দিবে? ক্রিকেট বোর্ডে সুযোগ পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অবশেষে একটি চাকরি পেতে যাচ্ছেন বিনোদ।
ভারতের হয়ে একশর বেশি ওয়ানডে খেলা ক্রিকেটারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন একজন মারাঠি উদ্যোক্তা। সন্দীপ থ্রট নামের ওই ব্যক্তি তার কোম্পানি সায়াদ্রি ইন্ডাসট্রিজ গ্রুপের জন্য কাম্বলিকে চাকরি দিতে চাইছেন। কাম্বলিকে এই চাকরির জন্য এক লাখ টাকা করে দিবে সন্দীপের কোম্পানি।
ভারতের জার্সিতে ১৭ টেস্ট ও ১০৪ ওয়ানডে খেলা সেসময়ের অন্যতম প্রতিভাববান তারকা ব্যাটারের আর্থিক সমস্যা এবার বুঝি মিটতে যাচ্ছে!









