খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ বাস্তবায়ন এবং দেশের সকল মাঠ-পার্ক ও উদ্যানে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও জন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েসের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে ও সহ সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমনের সঞ্চালনায় সমাবেশটি পরিচালিত হয়।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে অবস্থান ওসমানী উদ্যানের। এই উদ্যান রক্ষার জন্য এগারো হাজার গাছ রক্ষা আন্দোলন দুইযোগ আগে থেকেই করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর গুলিস্তানের কাছে ওসমানী উদ্যানে ‘গোস্বা নিবারণী’ পার্কের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন। ১০ মাসেই সব কাজ শেষ করার কথা। ৬ বছর চলে গেলো তবু তাদের কাজ শেষ করতে পারেনি। কাজের কাজ শুধু লুটপাট হয়েছে,খরচ বাড়িয়েছে। জনগণের উদ্যান সর্ব সাধারণের জন্য কালক্ষেপন না করে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) গুলশান মডেল টাউনের নকশা অনুযায়ী, ৮ দশমিক ৮৭ একর আয়তনের পার্কটির অবস্থান গুলশান ২ নম্বরের ১৩০-এ প্লটে। আগে নাম ছিল গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নতুন নামকরণ হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক। পার্কের ৫ দশমিক ৫৪ একর জায়গা অনেক দিন ধরে ইয়ুথ ক্লাবের দখলে। মাঠটি দখল মুক্তকরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেবার দাবি জানাচ্ছি।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা)’র সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল বলেন, বিগত ৫৩ বছরে বাংলাদেশের পরিবেশকে পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। উন্নয়ন আগে না পরিবেশ আগে এই বিতর্ককে সামনে এনে বিগত স্বৈরশাসকেরা পরিবেশকে বিষয়টিকে দমন করেছে। আনোয়ারা উদ্যান, পান্থকুঞ্জ, তাজউদ্দিন পার্ক তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আজকে সারাদেশের পার্ক, মাঠকে উদ্ধার করে জনগণের ব্যবহারের জন্য গণমুখি চিন্তার বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর কবির বলেন, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে মাঠ-পার্ক, উদ্যানে উন্নয়নের নামে উসমানী উদ্যান গত ৬ বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছে। ধানমণ্ডি মাঠে জন সাধারণ প্রবেশ করতে পারছে না। তাজউদ্দীন আহমেদ পার্ক লিজ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশের খেলার মাঠ উদ্যান এবং পার্ক এর একই অবস্থা। ধানমণ্ডি মাঠ সবুজ ভূমিটি একসময় উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে ধানমণ্ডি ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব লিমিটেড করার পরপরই মাঠটি ঘিরে ফেলা হয়। বন্ধ হয়ে যায় সর্বসাধারণের বিচরণ ও খেলাধুলা। ধানমণ্ডি মাঠসহ সারা দেশে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকা খেলার মাঠগুলো আসলে সর্বসাধারণের এজমালি মালিকানাধীন সম্পত্তি। এর ওপর ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর বা কোম্পানির মালিকানা চাপিয়ে দেওয়া লুণ্ঠনেরই আরেক নাম।
সমাবেশ থেকে দাবি উত্থাপন করে বলা হয়, শহীদ আনোয়ারা উদ্যান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পান্থকুঞ্জ পার্কের অরণ্য ফিরিয়ে দিতে হবে। কারওয়ানবাজার থেকে পলাশী পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাতিল করতে হবে। সবুজে ঘেরা ওসমাণী উদ্যান পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। তাজউদ্দীন পার্কের ইজারা বাতিল করতে হবে।
ছাত্র-যুব সমাবেশে উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা ও জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি আন্দোলনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীন ভয়েসের সদস্যরা।









