এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিবিসি সূত্রে জানা যায়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি কানাডার জন্য ইইউর দরজা আরও খোলার বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিও উপস্থিত ছিলেন। আগামী বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
ফন ডার লায়েন বলেন, কানাডার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ইইউ। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, সাইবার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে।
তিনি বলেন, কানাডাকে সহযোগী সদস্য হিসেবে যুক্ত করার দরজা খুলে দেওয়ার বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই।
ফন ডার লায়েন আরও বলেন, কানাডাকে ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করা কোনো দেশের বিরুদ্ধে অংশীদারত্ব নয়, বরং অভিন্ন শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ।
তিনি বলেন, অংশীদারত্ব ইউরোপের জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় যে ভাঙন তৈরি হয়েছে, তারও এটি একটি প্রতিক্রিয়া।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউরোপ ও কানাডা বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়কে একই দৃষ্টিতে দেখে। ইউক্রেন, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করেছে। তার ভাষায়, ইউরোপ ও কানাডা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়ে একমত, তা হলো গণতন্ত্রের প্রতি তাদের বিশ্বাস।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি গত সপ্তাহে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক যখন নানা বিষয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে, তখন ইউরোপের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ হওয়ার উদ্যোগ সামনে এলো।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। এরপর নতুন করে কয়েক দফা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নেয় দুই দেশ।
এদিকে ইউরোপীয় নিরাপত্তা জোরদারে একটি ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন ফন ডার লায়েন। এতে যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও অন্যান্য অংশীদার দেশকে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নেতাদের একটি কাঠামো গঠনের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। রাশিয়ার কারণে ইউরোপের সামনে থাকা ঝুঁকির ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় এখন এ উদ্যোগ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।









