এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বরগুনায় আদালত চলাকালীন এজলাস কক্ষের ভিতরে উত্তেজিত হয়ে এক আসামির হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। বিচারক জামিন না মঞ্জুর করায় এ হামলা করেন তিনি।
পরে এ ঘটনায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম ওই আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের ছোট গৌরীচন্না এলাকার বাসিন্দা মো. বশির।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম ফরাজি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আদালতে একটি সিআর মামলার অস্থায়ী জামিন শুনানি শুরু হয়। ওই মামলায় অস্থায়ী জামিনে থাকা আসামি বশিরের জামিন আবেদন করা হলে তা না মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক। এতে এজলাসের মধ্যেই ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে জামিন কেন বাতিল হয়েছে জানতে চেয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এ ছাড়াও অশ্লীল ভাষা এবং উচ্চবাচ্য করতে থাকেন তিনি। এ সময় এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীরা বশিরকে থামতে বললেও তিনি থামেননি। একপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বশিরকে হ্যান্ডকাপ পড়াতে গেলে উত্তেজিত অবস্থায় তাদেরকে মারধর করেন।
পরে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম একটি সিআর মামলা আমলে নিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বশিরকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য মো. সিদ্দিক, মো. শাহজাহান ও হনুফা আহত হয়েছেন। বেশি আহত হয়েছে মো. শাহজাহান।
বরগুনা জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, আজকে আদালতের এজলাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বশির নামে এক আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। জামিনের বিষয় আদেশের সময় ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এরপর আদালত থেকে তাকে নিয়ে যেতে পুলিশ সদস্যরা এলে তাদের ওপরও হামলা করেন। একজন আইনজীবী ও সুজনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এটা বিচার বিভাগের জন্য একটি হুমকি।
এ বিষয়ে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, আদালতে হাজির হওয়া এক আসামিকে বিচারক জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এতে ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে উচ্চবাচ্য কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশ থামতে গেলে তাদেরকে গায়ে হাত তোলাসহ ধাক্কাধাক্কি করে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের বিচারক ৩২৩ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।









