চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ হল প্রথম রাউন্ড। তৃতীয় রাতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নাটকীয় পাঁচ গোলের ম্যাচে স্লাভিয়া প্রাগকে হারিয়েছে লেন্স। ড্র করেছে পিএসভি আইন্দোহভেন-শাখতার দোনেস্কৎ এবং ফেনেরবাচ-রোমা। চমক দেখিয়েছে কোমো। অভিষেক মৌসুমে আরবি লেইপজিগের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে ক্লাবটি।
কোমোর কোচ স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী তারকা সাবেক সেস ফ্যাব্রেগাস। তার অধীনে সিরি আ’তে ভালো পরফরম্যান্স করে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে এসেছে ইতালির ক্লাবটি। এসেই বাজিমাত, ঘরের মাঠে জার্মান ক্লাব লেইপজিগকে হারিয়েছে ৪-১ গোলে। ১৫ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনার গোলে লিড পায় স্বাগতিকরা। ৩৮ মিনিটে ব্যবধান দিগুণ করেন আনাস্তাসিওস ডুভিকাস। ৫৪ মিনিটে স্কোরবর্ডে তৃতীয় গোল যোগ করেন আসানে দিয়াও। চার মিনিট পর ব্যবধান কিছুটা কমান আন্দ্রিজা মাকসিমোভিচ। ৯০ মিনিটে ম্যাক্সিমো পেরোনের গোলের শেষে প্রথম ম্যাচেই প্রথম জয় তুলে নেয় কোমো।
এদিকে চিরচেনা বায়ার্ন। গত ২৪ বছর ধরে চ্যাম্পিয়ন লিগে জয় দিয়ে শুরু করা একমাত্র ক্লাব তারা। বোডো/গ্লিমটকে ৫-০ গোলে হারিয়ে টানা ২৪ আসরে প্রথম রাউন্ডে জিতেছে বাভারিয়ানরা, তাদের ধারেরকাছেও নেই কোন দল। ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বড় জয় পেতে বেশ বেগও পেতে হয় জার্মান জায়ান্টদের। প্রথামার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা হ্যারি কেন, মাইকেল ওলিসে, জামাল মুসিয়ালাদের বারবার আটকেছেন সফরকারী গোলরক্ষক নিকিতা হেইকিন। প্রথমার্ধের শেষদিকে বোডো/গ্লিমটের গোলরক্ষক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে, সুযোগ বেশ ভালোই কাজে লাগায় বায়ার্ন।
৪৭ মিনিটে প্রথম গোল করে লিড এনে দেন মুসিয়ালা। ৬১ মিনিটে অলিসের ফ্রি কিক থেকে হেডে ব্যবধান দিগুণ করেন কেন। ৭৭ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তৃতীয় গোল করেন আলফোনসো ডেভিস। সব শেষে ৮৩ এবং ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে জোড়া গোলে বড় জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি তারকা ওলিসে। ৮৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সফরকারীদের ওডিন বিয়র্তুফ্ট।
দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরে বেশ ভালো শুরু করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথমবার টুর্নামেন্টে খেলতে আসা সাবাহকে হারিয়েছে ৪-০ গোলে। ম্যাচের ২৭ মিনিটে উদ্বোধনী গোল করেন ম্যাথিউস কুনহা। ৪২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের গোলে ব্যবধান হয় দিগুণ। বেঞ্জামিন সেসকো বিরতিতে যাওয়ার এক মিনিট আগে তৃতীয় গোলটি করেন। ৬৮ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে হালি পূর্ণ করে ইউনাইটেড।
আরেক ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাব স্লাভিয়া প্রাগের মাঠে এক দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ফরাসি ক্লাব লেন্স। প্রাগকে সফরকারীরা শেষ মুহূর্তের দুই গোলে হারায় ৩-২ ব্যবধানে। দুই ক্লাবেরই চতুর্থ মৌসুম এটি। ম্যাচের প্রথমে লিড নেয় স্লাভিয়া, ৫১ মিনিটে গোল করেন ড্যানিজেল স্টর্ম। এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। ৪৯ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিকুলাস কোনেনি, এবং ১০ জনে পরিণত হয় চেক ক্লাবটি। এরপরই ম্যাচে ফেরে সফরকারীরা। ৭৩ মিনিটে আবদুল্লাহ সিমা সমতা ফেরান। ৮৮ মিনিটে ১০ জনের স্লাভিয়াকে আবারও লিড এনে দেন স্টর্ম। ৯০ মিনিট শেষে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে ফেলে লেন্স। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা ১ মিনিটে আবারও সমতায় আনেন ফ্লোরিয়ান থাউভিন। দুই মিনিট পর জয়সূচক গোলটি করেন রুবেন আগুইলার।
অন্য ম্যাচে পিএসভির মাঠে শাখতারের গলেইকার মেন্ডোজার ৪৫ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোল করেন। লিড পায় সফরকারীরা। স্বাগতিকদের হয়ে সের্জিনো দেস্ত ৪৮ মিনিটে গোল করলে ১-১এ ড্র হয় ম্যাচ। আরেক ম্যাচে ফেনেরবাচের মাঠে ৩৯ মিনিটে রোমাকে লিড এনে দেন ব্রায়ান ক্রিস্ট্যান্ট। ৪৮ মিনিটে আর্চি ব্রাউনের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। ১-১ গোলে শেষ হয় এই ম্যাচও।









