ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে মরক্কোর ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমিকে। ফ্রান্সের উচ্চ আদালত মামলা খারিজের জন্য তার করা সবশেষ আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফ্রান্সের আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশন ২৭ বর্ষী মরক্কান তারকার আবেদন খারিজ করে দেয়ায় বিচার প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার আইনি সব প্রচেষ্টার সমাপ্তি ঘটেছে। প্যারিসের পশ্চিমে অবস্থিত ও-দ্য-সেন বিভাগের একটি ফৌজদারি আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলবে। বিচারের তারিখ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, এটি আগামী বছর হতে পারে।
মামলা ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বুলোন-বিলানকুর্টে হাকিমির বাড়িতে ঘটা এক ঘটনায় সম্পর্কিত। অভিযোগকারী নারী হাকিমির বাড়িতে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলে খবর আসে। পরে তিনি হাকিমির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন এবং ঘটনার পাঁচদিন পর হাকিমির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। যদিও হাকিমি শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
হাকিমির আইনি দল প্রথমে মামলা খারিজ করানোর চেষ্টা করে। ১৯ জুন ভার্সাইয়ের আপিল আদালত আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর বিষয়টি কোর্ট অব ক্যাসেশন নেয়া হয়। এখনেও আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে।
গত জুনে হাকিমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, আইনি প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রেখে এতদিন নীরব ছিলেন, বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন এবং নিজের পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে প্রস্তুত।
অভিযোগকারীর আইনজীবী র্যাচেল-ফ্লোর পার্দো জানান, সাড়ে তিন বছরের আইনি প্রক্রিয়ার পরও তার মক্কেল ন্যায়বিচার পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বলেছেন, ‘আশরাফ হাকিমিকে ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সাড়ে তিন বছরের আইনি প্রক্রিয়া এবং আশরাফ হাকিমির পক্ষের আইনজীবীদের দ্বারা অপবাদ ও মানহানির শিকার হওয়ার পরও, আমার মক্কেল ন্যায়বিচারের জন্য আশাবাদী। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।’
জবাবে হাকিমির আইনজীবী ফ্যানি কলিন বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু বা গুণাগুণ যাচাই করেনি এবং বিচারের সময় হাকিমির পক্ষের প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন হাকিমি পুলিশ ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।’
২০২৫/২৬ মৌসুমে পিএসজির উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ পাঁচটি বড় শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন হাকিমি। দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর চলতি বছরের ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত ৩০ জনে জায়গা করে নিয়েছেন।









