গাইবান্ধার এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা, যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদে এখন হাঁটু পানি। উজান থেকে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় নাব্যতা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে ১০৫ আন্তজেলা নৌরুট। বালাসী-বাহাদুরাবাদ রেলওয়ে ফেরিপথও বন্ধ। স্কুল শিক্ষার্থীসহ কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১৬৫ চরের সাড়ে চার লাখ মানুষ।
এক সময়ের প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদ ছিল ভাঙ্গন আর ভাসিয়ে দেয়ার আতঙ্ক, এখন তার বুকে দিগন্ত জোড়া ধু-ধূ বালুচর। উজান থেকে পানি প্রবাহ না থাকায় প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। নাব্যতা সংকটে ব্রহ্মপুত্রসহ গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা ও যমুনা নদীর ১০৫ টি আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীন নৌ-রুটসহ বন্ধ হয়ে গেছে বালাসী-বাহাদুরাবাদ রেলওয়ে ফেরিপথ। ২১০টি পয়েন্টে নৌ চলাচল উপযোগী পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীগুলো এখন পায়ে হেঁটে পার হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ।
এখন গভীরতা অনেক কম উল্লেখ করে নদী খনন করে রাস্তা কমিয়ে আনা গেলে যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে বলে জানান স্থানীয়রা।
বালাসী রেলওয়ে ফেরিঘাটের মেরিন সুপারেনডেন্ট মশিউর রহমান বলেন, ড্রেজিং করে দিলে সারা বছরই ফেরি চলাচল করা সম্ভব। এতে রাজস্ব আয় হবে এবং এলাকার লোকও উপকৃত হবে।
দুর্যোগ ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীগুলোর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ।
দুর্যোগ ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির কো-অর্ডিনেটর মহিরুল ইসলাম তুষার বলেন, যেভাবে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে আমার মনে হয় আগামী দশ-পনেরো দিনের মধ্যে নদীর পানি আরও শুকিয়ে যাবে। এর ফলে চলাচলের বিঘ্নতা আরও বেশি ঘটবে।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের পরিকল্পনা দাখিল করেছে। এগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন পেলে নাব্যতা সংকটের বিষয়টি সুরাহা হবে।
নব্যতা সংকটে বালাসীঘাট ও তিস্তামুখ খেয়াঘাট সংলগ্ন চ্যানেলটিও বন্ধ রয়েছে।






