সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ইচ্ছাপত্র বাতিল এবং প্রকল্পে সার্বভৌম গ্যারান্টি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
শফিকুল আলম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতির বিষয়টি অন্যতম অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আইনের মাধ্যমে এই খাতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা ছিল।
তিনি জানান, ওই আইন তখনও কার্যকর থাকলেও সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, নতুন কোনো কার্যক্রমে এটি ব্যবহার করা হবে না।
এদিকে আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের করা একটি জনস্বার্থের মামলার পর আদালত ওই আইনের কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আইনের অধীনে করা চুক্তিগুলো বহাল রেখে সেগুলোতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।
শফিকুল আলমের দাবি, বিদ্যমান চুক্তিগুলো বাতিল না করার আরেকটি কারণ ছিল আইনি ঝুঁকি। দুর্নীতির প্রমাণ ছাড়া চুক্তি বাতিল করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারত এবং বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হতে পারত।
পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিতর্কিত আইনটি বাতিল করা হয়। আগের আইনের অধীনে প্রক্রিয়া শুরু হলেও চুক্তি সম্পন্ন হয়নি, এমন প্রকল্প প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একটি এফএসআরইউ ছিল।
তিনি বলেন, বাতিল হওয়া আইনের আওতায় থাকা এসব প্রকল্প প্রস্তাবকে বিদ্যমান সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার অধীনে বিবেচনা করার সুযোগ ছিল না। এ কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্পগুলো বাতিল করা হয়।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আদালতের দ্বারস্থ হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত যথাযথ হওয়ায় আদালত এতে হস্তক্ষেপ করেনি বলে জানান শফিকুল আলম।
পরবর্তীতে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এতে আগের প্রস্তাবের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম ট্যারিফ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সার্বভৌম গ্যারান্টি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শফিকুল আলম বলেন, আগের সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় সব ধরনের ঝুঁকি সরকারের ওপর নিয়েছিল। সার্বভৌম গ্যারান্টি তারই একটি উদাহরণ।
তার মতে, এ ধরনের গ্যারান্টির ফলে সরকারের ওপর ভবিষ্যৎ আর্থিক দায় বা ‘কন্টিনজেন্ট লায়াবিলিটি’ তৈরি হয়, যা সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি প্রকল্পের মূলনীতি হলো সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঝুঁকি ভাগাভাগি করা।
শফিকুল আলম আরও দাবি করেন, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে সফল হলেও এসব দেশে প্রকল্পগুলোর জন্য সার্বভৌম গ্যারান্টি দেওয়া হয়নি।









