জীবনে দুঃসময় আসবে এটাই বাস্তবতা। কখনো ব্যক্তিগত সমস্যা, কখনো আর্থিক সংকট, আবার কখনো প্রিয়জনকে হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
এসব সময়ে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে। তবে ইসলাম বিপদের সময় হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেয়।
বিপদও হতে পারে পরীক্ষার অংশ
কোরআনে আল্লাহ জানিয়েছেন, মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনহানিসহ বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করা হবে। এসব পরিস্থিতিতে যারা ধৈর্য ধারণ করেন, তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিই শাস্তি এমন নয়, কখনো তা হতে পারে পরীক্ষা, শিক্ষা কিংবা আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি সুযোগ।
সবরের অর্থ কী?
সবরকে অনেক সময় শুধু কষ্ট সহ্য করা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে সবরের অর্থ আরও ব্যাপক। বিপদের সময় নিজেকে সংযত রাখা, আল্লাহর প্রতি আস্থা না হারানো এবং ভুল বা হারাম পথে না গিয়ে সঠিক পথে থাকার চেষ্টাও সবরের অন্তর্ভুক্ত।
সূরা আল-বাকারায় আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (২:১৫৩)
দুঃসময়ে দোয়া ও জিকির
কঠিন সময়ে মানুষের মন অস্থির হয়ে ওঠে। এ সময় আল্লাহকে স্মরণ করা, নামাজ আদায় করা এবং দোয়া করা একজন মুমিনকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে সাহায্য করতে পারে। কোরআনে আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তির কথা বলা হয়েছে।
তাই দুশ্চিন্তার সময়ে শুধু সমস্যার কথা ভাবার পরিবর্তে আল্লাহর কাছে নিজের কষ্ট ও প্রয়োজন তুলে ধরা যেতে পারে।
চেষ্টা করতে হবে, তারপর তাওয়াক্কুল
আল্লাহর ওপর ভরসা করার অর্থ হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়। ইসলাম মানুষকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করতে বলে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পর ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা করাই তাওয়াক্কুলের শিক্ষা।
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩)
কষ্টের পর স্বস্তির আশা
দুঃসময় যত দীর্ঘই মনে হোক, তা চিরস্থায়ী নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।’ (সূরা আশ-শরহ, ৯৪:৫-৬)
এই আয়াত একজন মুমিনকে আশাবাদী হতে শেখায়। তাই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে একা বা অসহায় মনে না করে আল্লাহর রহমতের আশা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনে সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো হবে না। কিছু পরিস্থিতি আমাদের মেনে নিতে হয়, কিছু পরিস্থিতি বদলানোর জন্য চেষ্টা করতে হয়। ইসলামের শিক্ষা হলো চেষ্টা, সবর, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে চলা। কারণ দুঃসময় শুধু মানুষকে ভেঙে দেয় না; অনেক সময় এই সময়ই মানুষকে তার রবের আরও কাছে নিয়ে আসে।









