পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘ সামরিক মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে দেশটির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। রণতরীটি টানা ২৬৬ দিন মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে প্রায় ২০০ দিন ছিল যুদ্ধাঞ্চলে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও জানিয়েছেন, পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ হিসেবে শিগগিরই আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে। দীর্ঘ সময়ের এই মিশনে রণতরীটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য এবং নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন উঠেছে।
হাং কাও আরও বলেন, মিশনের প্রয়োজনেই লিংকনের অবস্থান বাড়ানো হয়েছিল। মোতায়েন কঠিন, আর যুদ্ধ পরিচালনা করলে তা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আব্রাহাম লিংকনকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয়। রণতরীটি ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে যায়নি। দীর্ঘ মিশন চলাকালে রণতরীটির নাবিকদের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাজা খাবারের সরবরাহ না থাকায় খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়ে গেলে বাড়িতে ফোন করার সুযোগও সীমিত করা হয়।
হাং কাও জানান, মিশন চলাকালে অল্পসংখ্যক নাবিক মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এ সময় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। গত মাসে একজন নাবিক রণতরী থেকে পানিতে পড়ে গেলেও দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে এটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয়।
হাং কাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিশন চলাকালে রণতরীটি ১০ হাজারের বেশি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। তার দাবি, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর মধ্যে আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের চাকরিতে থাকার হারও অন্যতম সর্বোচ্চ।
তিনি বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমাদের তরুণ নারী-পুরুষদের তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় যেতে হয়েছে। কিন্তু তারা কখনো ভেঙে পড়েনি।
দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধকালীন মিশনে অনিশ্চয়তা ও স্বাভাবিক জীবনে বিঘ্ন তৈরি হয় উল্লেখ করে হাং কাও বলেন, সামরিক নেতৃত্বকে অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সেনাসদস্যদের কল্যাণের বিষয়টিও ভারসাম্যের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও আরও বলেন, নাবিক ও মেরিন সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশে ফেরার পর আব্রাহাম লিংকনের সদস্যদের ‘বীরের মতো স্বাগত’ জানানো উচিত।









