সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন করতে গেলে বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসনগত অবস্থার প্রমাণ দেওয়ার নিয়ম চালু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এমন প্রস্তাব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের পর্যালোচনা করা খসড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর পাসপোর্টের আবেদন করার সময় তার বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবককে নিজেদের নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসনগত অবস্থার প্রমাণ দিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্ম পর্যটন’ ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জন্ম পর্যটন বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো নারী সন্তানের জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন, যাতে সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষায় প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়াও সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে বলে জানান তিনি।
খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের একজন যদি যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত থাকেন অথবা ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হন, তাহলে ওই শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে বাবা-মাকে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদের মতো নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হতে পারে। আর অভিবাসী হলে আই-৯৪ ফর্ম বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মতো নথি দেখাতে হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্টের আবেদন করার সময় বাবা-মাকে মূলত সন্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ ও ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র দিতে হয়। তারা মার্কিন নাগরিক কি না, আবেদনপত্রে তা উল্লেখ করতে হয়, তবে সাধারণত নাগরিকত্বের অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হয় না।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন নীতি। এর আগে ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যাতে জন্মের সময় অন্তত একজন বাবা বা মা মার্কিন নাগরিক কিংবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হলে শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে ৬-৩ ভোটে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, এটি সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এরপর গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প নতুন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এবার মূলত জন্ম পর্যটনকে লক্ষ্য করে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কিছু ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন আদেশটিও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ট্রাম্পের আদেশের আওতায় নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে এমন শিশুদের পক্ষে আইনজীবীরা দুটি পৃথক মামলায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
এর মধ্যে একটি মামলা মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। মামলাটির শুনানিতে বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান ট্রাম্পের আদেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং বাদীপক্ষকে তাদের মামলা সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন। এতে আদেশটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে আদালত কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, তা বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা বলেছেন, প্রশাসনিক সংস্থাগুলো এখনো আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রকাশ্য নির্দেশনা দেয়নি। তাই এ পর্যায়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করা অকাল হবে।









