যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত নারী ব্যাংক অব আমেরিকার (বিওএফএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্টি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাংকার সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেছিলেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে বলেছে, আমাদের সহকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা হতবাক ও গভীরভাবে শোকাহত।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এরিন পিয়াচেন্টি ব্যাংক অব আমেরিকার বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস ইউনিটে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার লিংকডইন প্রোফাইলেও এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
২০২১ সালে স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্টির সঙ্গে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন তিনি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নিহত হওয়ার মাত্র চার দিন আগে নিজের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীসহ হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন পিয়াচেন্টি। সেখানে তিনি নতুন মেয়ের যত্ন নিতে ব্যাংক থেকে পাঁচ মাসের ছুটি পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি তার শিশুর বাপ্তিস্মও হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি তারা নিউ জার্সির লং বিচ, মেইন ও রোড আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে পিয়াচেন্টির দাদি তাকে অসাধারণ সুন্দর মেয়ে হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও পর্যটননির্ভর এলাকা টাইমস স্কয়ারে এক নারী ছুরি নিয়ে হামলা চালান। এতে পিয়াচেন্টি নিহত হন। ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ মঙ্গলবার হামলাকারী হিসেবে কুইন্সের ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোসের পরিচয় প্রকাশ করে। হামলার পর পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করে।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, সিসনেরোসের তিন সন্তান রয়েছে এবং তিনি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। তবে নিউইয়র্ক শহরে তার কোনো গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল না।
সিসনেরোসের ভাই প্যাট্রিক পেরাল্টা নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম গোথামিস্টকে বলেন, তার বোন কয়েক দশক ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তিনি সাধারণত আক্রমণাত্মক ছিলেন না।
পেরাল্টার ভাষ্য অনুযায়ী, সিসনেরোস নিয়মিত ওষুধ সেবন করছিলেন এবং গত কয়েক বছরে তার অবস্থার উন্নতিও হয়েছিল। তিনি মাঝে মাঝে একটি আইন কার্যালয়ে কাজ করতেন। গত সপ্তাহে পারিবারিক নৈশভোজে না গেলেও শনিবার ফোনে মাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ভালো আছেন।
এরপর সোমবার টাইমস স্কয়ারের হামলার খবর দেখে বিষয়টি জানতে পারেন পেরাল্টা।
পুলিশ কমিশনার টিশ জানান, সিসনেরোস একটি শপিং ব্যাগ থেকে দুটি ছুরি বের করে প্রথমে ওই পুরুষকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে পিয়াচেন্টির ওপর হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে দুটি বড় ছুরি নিয়ে সিসনেরোসের চারপাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। পরে পুলিশ তাকে থামাতে স্টান গান ব্যবহার করলে তিনি ছুরি দুটো নাড়াতে নাড়াতে দ্রুত কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে যান।
টিশ জানান, পুলিশ কয়েক মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি কিছুই ফেলবেন না এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের ‘হত্যা করতেই চান’ বলে জানান।
এরপর দুই পুলিশ কর্মকর্তা সিসনেরোসকে গুলি করেন। টাইমস স্কয়ারে যে এলাকায় হামলাটি হয়, সেটি একটি পুলিশ স্টেশনের পাশেই এবং নিউইয়র্কের বার্ষিক নববর্ষের বল ড্রপ অনুষ্ঠানের প্রধান স্থাপনার বাইরে। চলতি বছরের মে মাসেও একই এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন।









