ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবারের ভোটে প্রস্তাবটি ২২০-২০৪ ভোটে পাস হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। তাদের মধ্যে তিনজন এবারই প্রথম এ ধরনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেন, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে এখন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমি আরেকটি অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধকে সমর্থন করব না।
প্রস্তাবটি পাস হলেও তা এখনো প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি। আগের একই ধরনের প্রস্তাবগুলোও প্রেসিডেন্টের ডেস্কে পৌঁছায়নি। ট্রাম্প এতে ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ইরানকে মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ থেকে কোনগুলো সরাতে চান। তার মতে, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি।
ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেন। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলা হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
সিবিও আরও বলেছে, যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে।
ইরান যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে এর আগেও কংগ্রেসে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুনে প্রতিনিধি পরিষদ ২১৫-২০৮ ভোটে একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাস করে। পরে সিনেটেও ৫০-৪৮ ভোটে ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন পাস হয়েছিল।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে কিছু সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করে এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে।
সেপ্টেম্বরের এই ভোটটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে ইরান যুদ্ধ নিয়ে শেষ বড় ভোট হতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে আইনপ্রণেতারা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে ফিরবেন।









