ইরান-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট এড়িয়ে তেল পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ ইকোনমিক করিডরের (আইএমইইসি) প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সঙ্গে বহুপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ট্রাম্প বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন রুট থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য ইকোনমিক করিডর এবং তেল পরিবহনের অন্যান্য পথের প্রতি জোরালো সমর্থন জানায়। তা পাইপলাইন হোক বা অন্য কোনো ব্যবস্থা।
আইএমইইসি একটি বহুজাতিক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উদ্যোগ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে জি২০ সম্মেলনের সময় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ প্রকল্পের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে।
প্রস্তাবিত করিডরে ভারতের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করার দুটি প্রধান রুট থাকবে। এর আওতায় রেলপথ, সমুদ্রপথ, জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগের অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও ডিজিটাল সংযোগের জন্য কেবল এবং পরিচ্ছন্ন হাইড্রোজেন রপ্তানির জন্য পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই করিডর দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়ন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের বিকল্প হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত রুটে বাণিজ্যপথ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় অর্ধেকেরও বেশি কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক বিঘ্নের কারণে নতুন জ্বালানি করিডর তৈরির উদ্যোগে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
এদিকে বৈঠকে ইরানকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দেশটি দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যখন ইরানকে রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না।









