রাঙ্গামাটির কাউখালী গ্রামে বেড়ে উঠেছেন থুইনুই মারমা। পরিবারের সমর্থনে পা রেখেছিলেন ক্রীড়াঙ্গনে। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে উঁচিয়ে ধরেছেন সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। দেশকে সাফল্য এনে দেয়া থুইনুই থেমে যেতে চান না এখানেই। এগিয়ে যাওয়ার পথে স্বপ্নপূরণের সঙ্গে মা-বাবার স্বপ্নটাও পূরণ করতে চান।
বুধবার চ্যানেল আই সংবর্ধনা দিয়েছে সাফজয়ী দলকে। বাফুফের বাসে চড়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে এসেছিলেন শিরোপাজয়ী বীরকন্যারা, ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়া হয় থুইনুই-প্রীতিদের। পরে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন চ্যাম্পিয়ন মিডফিল্ডার থুইনুই।
নেপালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেননি থুইনুই। পরীক্ষার হলে বসতে না পারার আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন হয়ে। বলেছেন, ‘ফাইনাল ম্যাচটা আসলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। চিন্তাভাবনা ছিল শিরোপা জিতে দেশে ফিরব। আসলে শেষ মুহূর্তে যখন বাঁশিটা দিল, তখন অনুভূতিটা ছিল অন্যরকম। কারণ আমি এসএসসি পরীক্ষা দেইনি। দেশের হয়ে খেলবো বলে।’
‘যখন শেষ মুহূর্তের বাঁশিটা বাজলো তখন দেশের কথা, মা-বাবার কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছিল। আমি যে পরীক্ষাটা দিতে পারিনি, সেই আক্ষেপটাও ভুলে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছে সেটারই ফল পেয়ে গেছি। আফসোস হতো যদি চ্যাম্পিয়ন না হতাম। সেদিক থেকে এখন আর কোনো আফসোস নেই, কারণ এসএসসি পরীক্ষা না দিলেও দেশকে কিছু একটা দিতে পেরেছি।’

পরিবার সম্পর্কে থুইনুই বলেছেন, ‘আমরা তিন বোন, দুই ভাই। আমার বাবা কৃষিকাজ করেন, আর মা বাসায় কাজ করেন। আমার ভাই পড়ালেখা শেষ করেছে, তবে বাসাতেই থাকে। আর বড় দিদির বিয়ে হয়েছে, তিনিও আমাদের সঙ্গেই থাকেন।’
‘ফুটবলে আসতে আমার শুরুটা খুব বেশি কঠিন ছিল না। আমার মা-বাবা আমাকে ছোটবেলা থেকেই উৎসাহ দিতেন খেলাধুলার প্রতি। আমাকে এমনও বলতেন যে, লোকে যা বলে বলুক তাতে কিছুই যায় আসে না। মূলত ২০১৮ সাল থেকে আমার খেলাধুলা শুরু হয়।’
‘ওই সময়ের পর একটা ক্যাম্প হয় যশোরে। প্রায় দুমাস ছিলাম ওই ক্যাম্পে। এখান থেকে ডাক পাওয়া। এরপর ২০২০ সালে প্রথম বয়সভিত্তিক দলে ঢুকি। করোনার সময় আবারও চলে যাই ছুটিতে, পরে ২০২১ সালে এসে আবারও যুক্ত হই। আমি অনূর্ধ্ব-১৫ ও ১৭ দুটোই খেলেছি। বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৭ খেলেছি। সবকিছু মিলিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিবার থেকে ভালোই সাপোর্ট পেয়েছি।’
‘আমার মা-বাবার জন্য ভবিষ্যতে অনেককিছুই করতে চাই। নিজের স্বপ্নপূরণ করতে চাই। এরমধ্যে একটা স্বপ্ন হচ্ছে নিজের মা-বাবাকে বড় একটি ঘর বানিয়ে দিতে চাই। কারণ আমাদের ঘরটা তেমন ভালো নয়।’

সামনে অপেক্ষা করছে মারমাদের একটি বড় উৎসব। যা ঘিরে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন থুইনুই। বললেন, ‘আগামী মাসে আমাদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান রয়েছে, সেটির নাম বিজু। মারমাদের অনেক বড় একটি উৎসব এটি। আমাকে বাসা থেকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ওই সময়টাতে বাসায় যেতে পারবো নাকি। মা-বাবা এই উৎসব ঘিরে আমাকে যেতে বলেছেন। বিজুর সময় আসলে পানি খেলা হয়। সেখানে অনেক মারমারা যায়, একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা আসলে আমাকে খুব আনন্দ দেয়। ওই সময়টাতে আমিও চাই বাবা-মার সঙ্গে থাকতে।’









