সন্তান অপ্রতিমের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা। ছেলের সঙ্গে শেষ সময়ের স্মৃতি, তার নিখোঁজ হওয়ার পর খোঁজাখুঁজি এবং সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে অপ্রতিমের বাবার ভিডিও সাক্ষাৎকার শেয়ার করা হয়। পোস্টটি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দেখা যায়।
ভিডিও সাক্ষাৎকারে অপ্রতিমের বাবা জানান, পরিবারের সঙ্গে তার ছেলের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। বাবা, ছেলে ও পরিবারের আরেক সদস্য একসঙ্গে আড্ডা দিতেন এবং সময় কাটাতেন। ছেলে যাতে বাইরে বেশি সময় না কাটায়, সে জন্য দুজন হাউস টিউটরও রাখা হয়েছিল। গত চার মাস ধরে অপ্রতিম বাসাতেই বেশি সময় কাটাত বলে জানান তিনি।
ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার স্বাভাবিক পোশাক পরে বন্ধুদের সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে যায় অপ্রতিম। নামাজ শেষে বাসায় ফিরে এলে বাবা তাকে সোফায় বসিয়ে খাবার খাওয়ান। খাওয়া শেষে বাইরে না গিয়ে একসঙ্গে সিনেমা দেখার কথা বলেন এবং ভালো একটি ট্রিট দেওয়ার কথাও জানান।
তবে অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাইরে যাওয়ার কথা জানায়। এরপর মা-বাবাকে খুশি মনে বিদায় জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় সে।
পরে অপ্রতিম বাসায় ফিরে না আসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। মাঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সামাজিক বনাঞ্চল ও শালবনসহ বিভিন্ন এলাকায় তাকে খোঁজা হয়।
এক বন্ধুর মাধ্যমে জানা যায়, নামাজ শেষে অপ্রতিম রিকশায় করে আইসক্রিম খেতে খেতে এবং হাতে মোবাইল নিয়ে একটি নির্দিষ্ট দিকে গিয়েছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ খানবাড়িসহ চার-পাঁচটি এলাকায় রাতভর এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত খোঁজ চালায় বলে জানান তার বাবা।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ ও স্বজনরা দেখতে পান, অপ্রতিম ওই পথেই গিয়েছিল। একই পোশাক ও ক্যাপ পরা এক রিকশাচালককে খুঁজে পাওয়া গেলে তিনি অপ্রতিমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নামিয়ে দেওয়ার কথা জানান।
ছেলের ঘটনার বিষয়ে নিজের সন্দেহের কথা জানিয়ে অপ্রতিমের বাবা বলেন, তার ধারণা, ছেলের কয়েকজন সিনিয়র বন্ধু তার দুর্বলতা ও স্নেহের সুযোগ নিয়ে কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ছবি তোলার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত অনুমান।
সন্তান হারানোর কষ্টে ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ছেলেকে আর ফিরে পাবেন না। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান তিনি।
জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে অপ্রতিমের বাবা বলেন, এমন শাস্তি হলে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না। বক্তব্যের শেষ দিকে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি আর কথা বলতে না পেরে সবার কাছে ক্ষমা চান।









