ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকার জন্য দেশটির সৈন্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান ।
সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান বলেন, “এই মহান রাষ্ট্রকে রক্ষা করা এবং এর ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গাতেও হাত দেওয়ার চেষ্টাকারীকে শাস্তি দেওয়া—এসবই হলো সর্বোচ্চ কর্তব্য ও পুণ্যের কাজ; যার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন ও প্রাণ উৎসর্গ করা যেতে পারে।”
ইয়েমেন সীমান্তে মোতায়েন করা সৈন্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই বিরল ও কঠোর বার্তাটিতে ত্যাগ এবং আল্লাহর পথে সংগ্রামের বিষয়ে কুরআন ও মহানবী (সা.)-এর বাণীর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাটি এল; যেখানে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে এবং সৌদি আরব তার জবাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিশাল অংশ—যার মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং উপকূলীয় শহর ধুবাব অন্তর্ভুক্ত—দখল করে নিয়েছে। এছাড়া তারা বাব আল-মানদাব প্রণালী ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে।
গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরের আরও কিছু কৌশলগত দ্বীপ দখল করেছে, যার ফলে বাব আল-মানদাবের ইয়েমেন অংশের ওপর তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি বা তা ব্যাহত করার সক্ষমতাও তারা অর্জন করেছে।
এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাব আল-মানদাব হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংযোগস্থল (চোকপয়েন্ট), যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও বৃহত্তর ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করেছে। এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে না গিয়েই সুয়েজ খাল ও ইউরোপীয় বাজারে পৌঁছাতে পারে।
যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরানের বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে ব্যাহত হয়েছে; এমতাবস্থায় হুথিদের এই অগ্রযাত্রা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক এই সংঘাত ইয়েমেনের ১২ বছরের গৃহযুদ্ধেরই একটি নতুন অধ্যায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর এই সংঘাত মূলত স্তিমিত হয়ে এসেছিল, কিন্তু এখন তা আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং বৃহত্তর ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাতের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
গ্র্যান্ড মুফতির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাদের সকলকে সহায়তা প্রদান করেন এবং আমাদের দেশ ও প্রিয় ইয়েমেনকে সকল প্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। আমরা তার কাছে আরও প্রার্থনা করি যেন তিনি হুথি গোষ্ঠী এবং যারা তাদের সহায়তা ও সমর্থন জোগায়, তাদের সম্পূর্ণ পরাজয় নিশ্চিত করেন।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে হুথিদের কথিত হামলার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে; এছাড়া কর্তৃপক্ষ হুথিদের বিরুদ্ধে ইসলামের পবিত্রতম স্থান মক্কায় হামলার চেষ্টারও অভিযোগ এনেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সম্মুখসারিতে দায়িত্বরত ভাইরা, আপনাদের ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো—সর্বদা নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকা, শাসক ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের আনুগত্য করা এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আদেশ পালন করা; ঠিক যেমনটি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার নবীর সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপনারা নবীর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং মুসলমানদের পবিত্র স্থানসমূহ রক্ষা করছেন।”









