এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সৌদি আরবের জিজান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় আবার হামলা হয়েছে। গত মাসে একই এলাকায় হামলায় একটি শোধনাগারের উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার এক মাসের মধ্যেই নতুন করে এ হামলা হলো।
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিনানসিয়াল টাইমসের প্রকাশিত তথ্য সূত্রে, জিজানের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয় বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন। হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।
ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী জিজান। অতীতেও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে শহরটি। তবে নতুন হামলার দায় এখনো হুথিরা স্বীকার করেনি।
জিজানে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় শোধনাগার রয়েছে। এর পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে।
গত মাসের হামলার পর সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের জানিয়েছিলেন, হামলার কারণে কোম্পানির তেল উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে এর ফলে কোম্পানির কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
সর্বশেষ হামলাটিও গত মাসের হামলার প্রায় একই মাত্রার ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একজন। সৌদি আরামকো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।
২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কয়েক বছর বড় ধরনের সংঘাত হয়নি। তবে গত জুলাই থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।
হুথিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেয়। এরপর কয়েক সপ্তাহে দেশটির তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি আরবের ধারণা, হুথিদের পেছনে ইরানের সমর্থন রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার পর সৌদি তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুথিরা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে।









