নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ফরজ। কিন্তু ঘুম, ভুলে যাওয়া কিংবা কোনো অনিবার্য কারণে কখনো নামাজ ছুটে যেতে পারে। তখন সেই নামাজের কী বিধান কখন আদায় করতে হবে, আর দীর্ঘদিনের নামাজ বাকি থাকলে কী করা উচিত এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি মাজহাবভেদে কিছু বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা যায়।
নামাজের সময় নির্ধারিত
কোরআনে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।-সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০৩।
অর্থাৎ প্রতিটি নামাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। তাই কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের ওয়াক্ত পার করে দেওয়া উচিত নয়।
ঘুম বা ভুলে নামাজ ছুটে গেলে
অনেক সময় ঘুমের কারণে ফজরের নামাজ ছুটে যেতে পারে। আবার ভুলে যাওয়ার কারণেও কোনো ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, কেউ নামাজ ভুলে গেলে বা ঘুমিয়ে গেলে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করবে।
অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছুটে গেলে পরে তা আদায় করতে হবে এবং অযথা বিলম্ব করা উচিত নয়।
ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিলে
ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের ওয়াক্ত পার করে দেওয়া গুরুতর গুনাহ। এমন অবস্থায় আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা জরুরি। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া নামাজ পরে কাজা করতে হবে কি না এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
হানাফি, শাফেয়ি ও মালিকি মাজহাবের প্রচলিত মত অনুযায়ী, ছুটে যাওয়া ফরজ নামাজ কাজা করতে হবে। অন্যদিকে কিছু আলেমের ভিন্ন মত রয়েছে। তাই এ বিষয়ে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘদিনের নামাজ বাকি থাকলে
কারও জীবনের দীর্ঘ সময়ের নামাজ বাকি থাকলে প্রথমে হিসাব করার চেষ্টা করা উচিত কত ওয়াক্ত নামাজ ছুটেছে। সঠিক সংখ্যা মনে না থাকলে হানাফি ফিকহের প্রচলিত মত অনুযায়ী সম্ভাব্য হিসাব করে ধীরে ধীরে কাজা আদায় করা যায়।
তবে কাজা আদায়ের পরিকল্পনা করতে গিয়ে যেন বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ বাদ না পড়ে, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি।
কোন নামাজ কাজা করতে হয়?
সাধারণভাবে পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ কাজা করা হয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিতর নামাজেরও কাজা রয়েছে।
কাজা আদায়ের ক্ষেত্রে যে নামাজ ছুটেছে, সেই নামাজের ফরজ রাকাত আদায় করতে হয়। যেমন, ফজরের দুই রাকাত ফরজ ছুটে গেলে পরে দুই রাকাত ফরজই কাজা হিসেবে আদায় করতে হবে।
নারীদের ক্ষেত্রে একটি বিষয়
মাসিক ও প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাবের সময় নারীদের নামাজ আদায় করতে হয় না। এ সময় ছুটে যাওয়া নামাজ পরবর্তী সময়ে কাজা করার বিধানও নেই। এটি রোজার কাজা থেকে ভিন্ন, রমজানে এ সময় ছুটে যাওয়া রোজা পরে কাজা করতে হয়।
কাজা নামাজের পাশাপাশি তওবা
নামাজ ছুটে যাওয়ার কারণ যদি অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি হয়, তাহলে কাজা আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত। ভবিষ্যতে নামাজ সময়মতো আদায়ের জন্য নিয়মিত রুটিন তৈরি করাও জরুরি।
নামাজ ছুটে গেলে বিষয়টি নিয়ে হতাশ না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত। ঘুম বা ভুলের কারণে নামাজ ছুটে গেলে হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করতে হবে। আর দীর্ঘদিনের কাজা নামাজের ক্ষেত্রে মাজহাবভেদে বিধান ভিন্ন হতে পারে।









