সিঙ্গাপুরে বাসে যাত্রীদের বিরক্তিকর আচরণ ঠেকাতে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। এখন বাসে জোরে গান বা অডিও চালানো, সিটে পা তুলে বসা, খাবার খাওয়া, পানীয় পান করা কিংবা ময়লা ফেললে সর্বোচ্চ ৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
আরও গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ হতে পারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ৬ লাখ টাকা। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে বাস টার্মিনাল বা বাসের ভেতরে যাত্রী চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা, অন্য যাত্রীদের জন্য বিপদ তৈরি করা এবং বাস, বাস ইন্টারচেঞ্জ বা টার্মিনালের কোনো অংশ নোংরা করা।
সোমবার নতুন নিয়মগুলোর ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুরের ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (এলটিএ)। সংস্থাটি বলেছে, এসব বিধান গণপরিবহনে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
নতুন নিয়মগুলো দেশটির মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা রেল নেটওয়ার্কের বিদ্যমান বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে বাসে যাত্রীদের খাবার খাওয়া বা অন্য ধরনের বিরক্তিকর আচরণের বিষয়গুলো মূলত বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার আওতায় ছিল। চালকেরা প্রয়োজনে যাত্রীকে বাস থেকে নেমে যেতে বলতে পারতেন।
এখন এসব আচরণ আনুষ্ঠানিকভাবে আইনগত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাৎক্ষণিক জরিমানা করা যাবে।
এলটিএ জানিয়েছে, টিকিট পরিদর্শক ও বাস ইন্টারচেঞ্জের কর্মীদের মতো অনুমোদিত কর্মীরা অপরাধের সন্দেহে যাত্রীদের বিরুদ্ধে সরকারি নোটিশ জারি করতে পারবেন। তবে বাসচালকদের এ ধরনের জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের মূল দায়িত্ব বাস নিরাপদে পরিচালনা করা।
তবে কোনো যাত্রী বিশৃঙ্খল আচরণ করলে চালক তাকে তা বন্ধ করতে বলতে পারবেন। নির্দেশ অমান্য করলে ওই যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে পুলিশকেও হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে।
গণপরিবহনে যাত্রীদের বিরক্তিকর আচরণ নিয়ন্ত্রণে সিঙ্গাপুরই একমাত্র দেশ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও এ ধরনের বিধিনিষেধ জোরদার করা হচ্ছে।









