বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত গরম থেকে সুরক্ষা দিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে চার বছরের মধ্যেই সেই খরচ উঠে আসতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পোশাক উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কারখানায় শীতলীকরণ ব্যবস্থা বাড়ানো শ্রমিকদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও তাদের সরবরাহকারী ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কারখানার ছাদে প্রতিফলনশীল রং করা, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা উন্নত করার মতো উদ্যোগ বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর। এসব ব্যবস্থায় বিনিয়োগের খরচ চার বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে।
ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রা পরিমাপ করে গবেষণাটি করা হয়। এতে দেখা যায়, অনেক সময় কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় বেশি থাকে। বিশেষ করে ইস্ত্রি ও পোশাকের শেষ ধাপের কাজের বিভাগে শ্রমিকরা অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
গবেষকদের হিসাবে, অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের কারণে ওই আট কারখানার বার্ষিক আয়ের গড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। এতে পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড রয়টার্সকে বলেন, শীতলীকরণ ব্যবস্থায় কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে কত অর্থ ক্ষতি হচ্ছে, তা জানা না থাকলে এ ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
তিনি জানান, গত এক বছরে গবেষকদের সঙ্গে আলোচনায় পোশাকের বিভিন্ন ব্র্যান্ড কারখানায় তাপ মোকাবিলায় বিনিয়োগের খরচ কত দিনে উঠে আসবে, তা জানতে আগ্রহ দেখিয়েছে। কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় জলবায়ু ঝুঁকি কমানো, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্য এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য তিন বছর আগে করা এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, চরম আবহাওয়া ও বন্যার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় কমে যেতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পোশাকশিল্পে সচেতনতা বাড়লেও কারখানাগুলোকে অভিযোজনের জন্য বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো কতটা অর্থ দেবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে আছে।
সম্প্রতি আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন চরম তাপমাত্রায় শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, কোনো কারখানার জন্য এককভাবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া আর্থিকভাবে যৌক্তিক না হলে ব্র্যান্ডগুলোরও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর খরচ ভাগ করে নেওয়া উচিত।
এএএফএর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট নেট হারম্যান বলেন, বিশ্বজুড়ে চরম তাপমাত্রা ক্রমেই সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠছে। তাই পোশাকশিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শ্রমিকদের সুরক্ষায় শিল্পকে পদক্ষেপ নিতে হবে।









