এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
প্লেজারিজমের অভিযোগ ও একাডেমিক কাজ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে থাকা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডে মারা গেছেন। আপাতত তার মৃত্যুকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিতে একটি ঠিকানায় তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। আরডের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তাকে হারিয়ে তারা গভীরভাবে শোকাহত। তাদের দাবি, জেসনের বিরুদ্ধে ছড়ানো ‘ভুল তথ্যের প্রচারণা’ তার ওপর অত্যন্ত চাপ সৃষ্টি করেছিল।
মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ৪১ বছর বয়সী আরডে। তার একাডেমিক কাজের বিভিন্ন অংশে প্লেজারিজমের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তবে এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
অভিযোগের সূত্রপাত করেন শিক্ষাবিদ নাথান কোফনাস। তার দাবি, আরডের একাডেমিক কাজের মধ্যে প্লেজারিজমের একাধিক ঘটনা রয়েছে। তবে ২০১৫ সালে আরডেকে পিএইচডি দেওয়া লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তিনি প্লেজারিজম করেননি।
আরডে তার প্রাথমিক একাডেমিক কাজের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, অটিজমের কারণে তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে অনুকরণ বা মিমিক্রির ওপর নির্ভর করতেন, যা কিছু ভুলের কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব ভুলকে ইচ্ছাকৃত প্লেজারিজম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিতর্কের মধ্যে গত সপ্তাহে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আরডে বলেছিলেন, সমালোচনা একাডেমিক জীবনের স্বাভাবিক অংশ হলেও তার ক্ষেত্রে বিষয়টি একাডেমিক মতবিরোধের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অব্যাহত অভিযোগ, জল্পনা ও প্রকাশ্য মন্তব্য তার এবং তার পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
২০২৩ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় আসেন আরডে। তার নিয়োগকে তখন একাডেমিয়ায় বৈচিত্র্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।
আরডের পদত্যাগের পর তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের ঘোষণা দিয়েছিল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরাহ প্রেন্টিস জানিয়েছিলেন, তদন্তটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হবে এবং এতে কেমব্রিজের ভেতর ও বাইরের জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদরা যুক্ত থাকবেন।
শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা আরডে পরে ডক্টরেট অর্জন করেন। এরপর ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার মৃত্যুর পর এসব প্রতিষ্ঠান তাকে একজন আন্তরিক ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ তৈরিতে সক্রিয় শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করেছে।









