নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউন থেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির উদ্দেশে উড্ডয়নের পর কান্তাসের একটি ফ্লাইটের ইঞ্জিন থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। পরে ফ্লাইটটি গতিপথ পরিবর্তন করে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
নাইন ডটকম ডটএইউ, ৭নিউজ এবং নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম স্টাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুইন্সটাউন থেকে সিডনির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া কান্তাসের কিউএফ১২২ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টার এই ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে নির্ধারিত সময়েই কুইন্সটাউন থেকে উড্ডয়ন করে। তবে উড্ডয়নের মাত্র ৫২ মিনিট পর বোয়িং ৭৩৭টি ক্রাইস্টচার্চ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ক্রাইস্টচার্চ বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফ্লাইটটি অবতরণের সময় জরুরি সেবার কর্মীরা সেখানে প্রস্তুত ছিলেন।
কান্তাসের এক মুখপাত্র বলেন, পাইলট ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবতরণের’ অনুরোধ করার পর ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে।
এক বিবৃতিতে কান্তাস জানায়, কুইন্সটাউন থেকে উড্ডয়নের পর সিডনিগামী ফ্লাইটটিতে ইঞ্জিনে সমস্যার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে সেটিকে ক্রাইস্টচার্চে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পাইলটরা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত। ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করেছে। আমরা জানি, যাত্রীদের জন্য এটি উদ্বেগজনক অভিজ্ঞতা ছিল। তাদের সহায়তা দিতে আমরা সব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করব।
যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থাও কান্তাস করবে বলে জানানো হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির এক মুখপাত্র ৭নিউজকে জানিয়েছেন, একটি পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে ইঞ্জিনে এই সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় কুইন্সটাউনের ফ্র্যাঙ্কটনে গাড়ি চালাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মার্ক ভেনিং। তিনি স্টাফকে বলেন, আমি ফ্র্যাঙ্কটন রোড দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই, অনেকটা জোরে গুলির শব্দের মতো।
তিনি বলেন, ওপরে তাকিয়ে দেখি বাম ইঞ্জিন থেকে কমলা রঙের আগুনের শিখা বের হচ্ছে।
ফ্র্যাঙ্কটনের বাসিন্দা দুই ভাই ক্যাম্পবেল ও ড্যানিয়েল লংমায়ারও ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। তারা জানান, ঘটনার সময় তারা বাড়িতে ছিলেন।
ক্যাম্পবেল বলেন, বাম ইঞ্জিন থেকে আগুনের শিখা বের হতে শুরু করে। এরপর সবাইকে দেখতে বলি, কারণ ভেবেছিলাম হয়তো একবারের ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, এরপর ফ্লাইটটি আমাদের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ছয়-সাতবার আগুনের শিখা বের হয় এবং বিকট শব্দ হয়।
ড্যানিয়েল বলেন, শব্দটা সত্যিই অনেক জোরে ছিল। পুরো উপত্যকাজুড়ে এর প্রতিধ্বনি হচ্ছিল। এমন কিছু আমি আগে কখনো দেখিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। কী ঘটছে, বুঝতে পারছিলাম না। প্রতিদিন তো আর এমন দৃশ্য দেখা যায় না।









