এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৬ বার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিয়েছে গ্রুপপর্ব থেকেই। যার মধ্যে গত ৬ বিশ্বকাপে ৪ বার ঘটেছে এমন। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে ঝুলছে এই ‘চ্যাম্পিয়ন্স কার্স’ও। তবে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এমনও হয়েছে চারবার, যেখানে পরপর দু-আসরে একই দল ফাইনাল খেলেছে। দুটি দল তো ব্যাক টু ব্যাক চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে শেষ ১৯৩৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ছিল ইতালি। যুদ্ধ শেষে ১৯৫০ সালে ফিরে চতুর্থ বিশ্বকাপ, আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন আজ্জুরিরা গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ১৯৬২ সালের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পারেনি গ্রুপপর্ব পেরোতে। একইভাবে ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০০২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপপর্ব থেকে।
২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালি বিদায় নেয় ২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে। ২০১৪ বিশ্বকাপেও একই দশা হয় দলটির। এমনকি পরের ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গাই করে নিতে পারেনি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০১০ সালে তারকাবহুল স্পেন প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়েদের খেতাব পায়। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেই একই ‘চ্যাম্পিয়ন্স কার্স’, বিদায় নিতে হয় গ্রুপপর্ব থেকে। সেবছরই চতুর্থ শিরোপার স্বাদ পায় জার্মানি। পরেরবার একই পরিস্থিতি হয় দলটির, ২০১৮ এবং ২০২২ টানা দুই বিশ্বকাপে তারা বাদ পড়ে গ্রুপপর্ব থেকে।
ক্রীড়া বিশ্লেষক এবং ফুটবল ইতিহাসবিদরা বারবার এই পতনের জন্য কয়েকটি মূল কারণকে দায়ী করেন। সাধারণত একটি দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলে, পরের বিশ্বকাপের জন্য হট-ফেভারিত থাকে। যাদের উপর প্রত্যাশা বেশি থাকে। দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে দলগুলো সেই চাপ সামলে উঠতে পারে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দল উচ্চ প্রশংসিত হওয়ায়, কোচরা কখনও কখনও একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির উপর অতিরিক্ত নির্ভর করেন এবং নতুন, ফর্মে থাকা প্রতিভাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হন। অনেকের মতে চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলতে আসা দলগুলো বিশ্বকাপের আগে তাদের ঠেকাতে আলাদাভাবে অধ্যয়নও করে।
এখন দেখার ‘চ্যাম্পিয়ন্স কার্স’ কাটিয়ে আর্জেন্টিনা কতদূর যেতে পারে। লিওনেল স্কালোনির দলের গত আসরের স্কোয়াডের কিছু খেলোয়াড় এবারের আসরে নেই, যুক্ত হয়েছে বেশকিছু নতুন এবং তরুণ প্রতিভা, যাদের সঙ্গে আছেন চিরতরুণ লিওনেল মেসি।
গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওটামেন্ডি, লিওনেল মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ, লৌতারো মার্টিনেজের সঙ্গে আছেন ভরসাবান নিকো পাজ, জিওভানি লে সেলসো, ফাকুন্দো মেদিনা, থিয়াগো আলমাদার মতোরা। ২০২৪ সালের পর একটি ম্যাচেও হারেনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
ইতিহাসে স্বস্তির কথাও আছে, ৪ বার পরপর দুবার একই দল ফাইনাল খেলেছে। যেখানে দুবার শিরোপা সাফল্যও এসেছে। টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড আছে দুটি দলের। ১৯৩৪, ১৯৩৮ আসরে ইতালি এবং ১৯৫৮, ১৯৬২ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল।
বাকি দুবার দেখা মেলেনি সাফল্যের। ১৯৯৪ সালের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ১৯৯৮ আসরে এবং ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০২২ আসরের ফাইনালে হেরেছিল।
আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নামবে। অ্যারোহেড স্টেডিয়াম, কানসাস সিটিতে।









