এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
গাইবান্ধা পৌর শহরে ১১ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে নিয়ে উধাও হয়ে মায়ের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাত। সন্তানকে ফিরে পেতে থানায় ও আদালতে অভিযোগ করেও এখনো তার সন্ধান পাননি মা রুমানা আক্তার।
রুমানার অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তার স্বামী হামিদুল মিয়া শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শিশু ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে বের হন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি।
ঘটনার দুই দিন পর হামিদুল ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে জানান রুমানা। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
রুমানা বলেন, তিনি কোনো কিছু চান না, শুধু সন্তানকে ফিরে পেতে চান। মেয়েটি কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে, তা জানতে না পেরে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করতে হামিদুল তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় বাবার বাড়িতে চলে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্যই হামিদুল নিজের শিশুকন্যাকে ব্যবহার করছেন।
শিশুটির নানি রোশনা বেগম বলেন, তারা দরিদ্র ও দিনমজুর পরিবার। ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। নাতনিকে দ্রুত জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও হামিদুলের মাদকাসক্তির কথা জানিয়ে শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।









