জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলায় জামিনের আবেদন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ইলাহী চৌধুরী। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের জামিনের আবেদনটি ফেরত চেয়েছেন দীপু মনি। অন্যদিকে, প্রয়োজনে নিজ বাসায় অন্তরীণ থাকার শর্তেও জামিন চেয়েছেন তৌফিক ইলাহী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শুনানির একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন দীপু মনি ও তৌফিক ইলাহী চৌধুরী।
দীপু মনি জানান, অসুস্থ স্বামীর পাশে থাকার জন্য জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে তার স্বামী মারা গেছেন। ফলে আগের জামিনের আবেদনটির আর প্রয়োজন নেই। তাই আবেদনটি ফেরত নেওয়ার কথা জানান তিনি। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
অন্যদিকে তৌফিক ইলাহী চৌধুরী ‘যেকোনো শর্তে’ জামিনের আবেদন করেন। প্রয়োজনে নিজ বাসায় অন্তরীণ থাকার শর্তেও তাকে জামিন দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানান তিনি। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান সাবেক এই জ্বালানি উপদেষ্টা।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি প্রসিকিউশন। মামলার কয়েকজন আসামি বয়োজ্যেষ্ঠ, কেউ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং কেউ গুরুতর অসুস্থ। মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের জামিন দেওয়ার আবেদন জানান আইনজীবীরা।
এর জবাবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিভিন্ন কারণে মামলার কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
শুনানি শেষে মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ৪৫ জন আসামি ছিলেন। আসামিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় বিচার কার্যক্রম চলমান থাকায় তাদের নাম এই মামলা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে ২০১৫ সালে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১। মামলাটির শুনানি শেষে তার বিরুদ্ধে এ আদেশ দেওয়া হয়।









