‘সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করি, শিশুশ্রম বন্ধ করি’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেরাণীগঞ্জের স্থানীয় পোশাক তৈরি কারখানা অঞ্চলে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস- ২০২২’র উদযাপন করেছে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)।
দাতা সংস্থা মনডিয়াল এফএনভি- এর সহায়তায় সোমবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এই কর্মসূচিতে কেরাণীগঞ্জের ৩টি শ্রমিক ইউনিয়নও যুক্ত হয়।
সকাল ১১টায় কেরাণীগঞ্জের নাগরমহল রোডের তানাকা টাওয়ার চত্ত্বরে এক বিশেষ আলোচনা সভার মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বর্ণাঢ্য র্যালি, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান এবং পথযাত্রার মাধ্যমে কেরাণীগঞ্জ স্থানীয় পোশাক তৈরি কারখানা অঞ্চলে দিনব্যাপী শিশুশ্রম বিরোধী বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হয়।
বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এর ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) মাহমুদুল হাসান খান এর সঞ্চালনায় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক এ কে এম সালাহ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেরাণীগঞ্জের এসি ল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুল্লাহ আল রনী।
শিশুশ্রম যে একটা অপরাধ সেটা বোঝাতেই আমাদের আজকের আয়োজন বলে জানান মোঃ আবদুল্লাহ আল রনী। তিনি আরও বলেন, সব অপরাধ শাস্তি দিয়ে কমানো যায় না। কিছু বিষয় নিজের বিবেক দিয়ে বিবেচনা দিয়ে ঠিক করতে হয়। শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে প্রেশার গ্রুপ হয়ে উঠতে হবে। সরকারকে প্রেশার দিতে হবে, মালিককে প্রেশার দিতে হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক জনাব এ কে এম সালাহ উদ্দিন বলেন, কেরাণীগঞ্জকে শিশুশ্রম নিরসনে রোল মডেল করা হবে। এ লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে। এর কোন বিকল্প নাই। সরকারের কার্যক্রমে যারা সাড়া দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো। প্রয়োজনে মামলা দিবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এর মহাসচিব জেড এম কামরুল আনাম বলেন, শিশুশ্রম নিরসন করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৩ সালের মধ্যে কেরাণীগঞ্জ থেকে শিশুশ্রম নিরসন করতে সরকার, ডাইফি, মন্ত্রণালয় কর্তৃক কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেরাণীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানীয় পোশাক তৈরি কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলোচনা সভা ও র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র্যালির পর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও পথযাত্রা শুরু হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা “আমরা শিশুশ্রম বন্ধ করবো” এই মর্মে স্বাক্ষর করেন। নানারঙের হাতের ছাপ দিয়ে “আমরা কাজ করতে চাই না” মর্মে ক্যানভাস রাঙিয়ে তোলে শিশুরা।









