এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে প্রস্তুতির জন্য আরও সময় চেয়েছে বাংলাদেশ। মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত এবং উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও সক্ষম করে তুলতে এই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সরকার।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে এ দাবি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত প্রস্তুতি সময় একটি মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশের এ অনুরোধ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিবেচনাধীন উল্লেখ করে এলডিসি গ্রুপের সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা এবং কার্যকর উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
দোহা কর্মসূচি অব অ্যাকশনের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে সামনে রেখে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ছয়টি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
এর মধ্যে রয়েছে সরকারি উন্নয়ন সহায়তার (ওডিএ) ধারাবাহিক পতন ঠেকানো, স্বল্প সুদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো, বাজারে প্রবেশাধিকার উন্নত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
অবৈধ অর্থপ্রবাহ বন্ধ ও পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি। পাশাপাশি শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এলডিসিগুলোকে আরও সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ঋণের চাপ, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু সংকট এলডিসিগুলোর সক্ষমতার পরীক্ষা নিচ্ছে।
তিনি বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে। ২০২৬ সালে এ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ‘৩আর’ কৌশল—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনঃস্থাপন) ও রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)—টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে কাজ করছে।
এলডিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নেপালকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে এলডিসি গ্রুপের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে গাম্বিয়ার দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।








