কিরগিজস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশি, ভারত ও পাকিস্তান, মিশরের শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ৯ শতাধিক বাংলাদেশি একরকম গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। উজবেকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, কিরগিজস্তানের পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
দেশটির স্থানীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হোস্টেলে গত ১৩ মে বিদেশি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর মিসর থেকে আসা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিরগিজ শিক্ষার্থীদের মারামারির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই পরিস্থিতি উত্তাল হয়।
পরে স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে রাস্তা দখল করে এবং ভবনে ভাঙচুর চালায়। এরপর থেকে রাজধানী বিশকেকে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজিত জনতা পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল লক্ষ্য করেও বিক্ষিপ্ত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি সদস্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একদল দুর্বৃত্ত শনিবার বিশকেকে হোস্টেলে অবস্থান করা ভারত ও পাকিস্তানের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
একের পর এক হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিরগিজস্তানে পড়াশোনা করতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় নিজ নিজ দেশের শিক্ষার্থীদের সতর্কতার সাথে চলাফেরার নির্দেশ দিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।
কিরগিজস্তানে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে প্রায় ১২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। সরকারি মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকলেও সমস্যায় আছেন বেসরকারি মেডিকেলের ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা একরকম গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
কিরগিজে অবস্থানকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঘরের ভেতরে এবং সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রয়োজনে সরাসরি যোদাযোগ করতে পারবেন এই নম্বরে— +998930009780









