অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন থাকতে পারে বেশ কিছু বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে ফেস আইডি ও টেলিফটো ক্যামেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে ডিভাইসটি। তবে এর পরিবর্তে ফিরতে পারে টাচ আইডি।
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বিশেষ অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের সঙ্গে নতুন ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হতে পারে। তবে অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভাইসটির অস্তিত্ব, নাম, স্পেসিফিকেশন বা দাম নিশ্চিত করেনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যের ভিত্তিতে ডিভাইসটিকে ‘আইফোন ফোল্ড’ বা ‘আইফোন আল্ট্রা’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। ব্লুমবার্গের মার্ক গুরম্যানের দাবি, এর প্রাথমিক দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে। ফলে এটি প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
তবে অত্যন্ত পাতলা নকশা নিশ্চিত করতে গিয়ে অ্যাপলকে কিছু ফিচারে ছাড় দিতে হতে পারে।
ফোল্ডেবল আইফোনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হতে পারে ফেস আইডির অনুপস্থিতি। ফাঁস হওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ফোনটি সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় মাত্র প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরু হতে পারে।
এত পাতলা কাঠামোর মধ্যে ফেস আইডির জন্য প্রয়োজনীয় ট্রুডেপথ ক্যামেরা ও অন্যান্য সেন্সর বসানো কঠিন হতে পারে। তাই অ্যাপল ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে পাওয়ার বাটনের সঙ্গে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যুক্ত থাকতে পারে। আইপ্যাডের কয়েকটি মডেলে অ্যাপল যে ধরনের সাইড-মাউন্টেড টাচ আইডি ব্যবহার করেছে, নতুন আইফোনেও একই পদ্ধতি দেখা যেতে পারে।
ক্যামেরার দিক থেকেও আইফোন ১৮ প্রো মডেলের তুলনায় পিছিয়ে থাকতে পারে ফোল্ডেবল আইফোন।
ডামি ইউনিট ও বিভিন্ন লিক অনুযায়ী, ফোনটির পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ক্যামেরা এবং অন্যটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা হতে পারে।
অর্থাৎ এতে আলাদা টেলিফটো লেন্স নাও থাকতে পারে। ফোনের পাতলা নকশার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আইফোন ১৮ প্রো মডেলের তুলনায় ফোল্ডেবল আইফোনের ক্যামেরা সিস্টেম কম বহুমুখী হতে পারে।
মার্ক গুরম্যানের তথ্য অনুযায়ী, ফোল্ডেবল আইফোনে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির একটি বাইরের ডিসপ্লে এবং ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির একটি অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকতে পারে।
বাইরের ছোট ডিসপ্লেটি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা যাবে। আর ফোনটি খুললে বড় স্ক্রিনে অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা ও মাল্টিটাস্কিংয়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।
ফাঁস হওয়া ডামি মডেলগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ফোনটি খোলার পর তুলনামূলক চওড়া ও কমপ্যাক্ট আকৃতির হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক ফোল্ডেবল ফোনের মতো লম্বাটে অনুপাতের ডিসপ্লে নাও থাকতে পারে।
অ্যাপল স্ক্রিনের ভাঁজের দাগ বা ক্রিজও যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে খবর রয়েছে। দীর্ঘদিন ভাঁজ ও খোলার পরও স্থায়িত্ব ধরে রাখতে লিকুইড-মেটাল হিঞ্জ ব্যবহার করা হতে পারে।
ভাঁজযোগ্য কাঠামোর কারণে ম্যাগসেফ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এতে অ্যাপলের ম্যাগনেটিক চার্জিং প্রযুক্তি থাকতে পারে।
মার্ক গুরম্যানের মতে, অ্যাপল আইফোন এয়ারে ম্যাগসেফ যুক্ত করতে পারলে ফোল্ডেবল আইফোনেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফোল্ডেবল আইফোনে ভলিউম বাটনের অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। প্রাথমিক ডামি মডেল অনুযায়ী, ভলিউম নিয়ন্ত্রণের বাটনগুলো ফোনের ওপরের অংশে এবং ডান দিকে থাকতে পারে। বাম পাশে কোনো ফিজিক্যাল বাটন নাও থাকতে পারে।
ফোনের অভ্যন্তরীণ উপাদান সাজানোর কারণেই এমন নকশা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি পুরোনো লিক অনুযায়ী, ফোনটির মাদারবোর্ড ডান পাশে রাখা হতে পারে। এতে ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত কেবল নেওয়ার প্রয়োজন কমবে।
এ ছাড়া ফোনটিতে অ্যাকশন বাটন বাদ পড়তে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।









