কয়েকমাস আগে চিত্রনায়িকা বর্ষা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, সিনেমা ছেড়ে দেবে। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, হাতে দুই-তিনটি সিনেমা আছে। সেগুলো শেষ করে সিনেমা থেকে সরে যাবো। দুই সন্তান বড় হচ্ছে। তারা যদি দেখে মা সিনেমার নায়িকা, তখন কি ভাববে?
এসব চিন্তা করেই সিনেমা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বর্ষা। এবার তার স্বামী প্রযোজক ও অভিনেতা অনন্ত জলিলও জানালেন, সিনেমা ছেড়ে দেবেন। শনিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে স্ত্রী বর্ষার মতো অনন্ত জলিলও সিনেমা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন।
অনন্ত জলিল বলেন, আমাদের দুই ছেলে। বড়ছেলে আটপারা কোরআনের হাফেজ, আলহামদুলিল্লাহ্। ছোট ছেলেও কোরআন রিডিং খতম করেছে। আরেকবার শেষ করে মুখস্ত করবে। একজনের বয়স ১০ বছর, আরেকজনের সাড়ে ৭ বছর। বর্ষা যখন প্রথম প্রেগন্যান্ট হয়, তখন আমরা নিয়ত করেছিলাম আমাদের বাচ্চাকে মুফতি বানাবো ইনশাআল্লাহ, ওরা মদিনাতে পড়াশোনা করবে। ইসলামিক মাইন্ডে রাখবো।
সিনেমা ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে অনন্ত জলিল বলেন, আমার দুই ছেলে মানারতে পড়ে। ওখানে ইংলিশের সাথে অ্যারাবিক পড়ে। জোহর নামাজের পর ওদের ছুটি দেয়া হয়। বাসা থেকে খাওয়াদাওয়া করে ওদের টিচার আসে, পরে আবার মাদ্রাসায় চলে যায় আবার এশার নামাজের পর বাসায় আসে। ওরা আমাদের চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। যেহেতু ওরা জেনারেল ইসলামিক লাইনে পড়াশোনা করে, ওদের আম্মু সিনেমা করে এটা দেখতে ভালো লাগবে না। আমিও চাইবো না, আমার বাচ্চারা ইসলামিক পড়াশোনা করবে আর আমরা সিনেমা করবো, এটা দেখতে ভালো লাগবে না।
২০১০ সাল থেকে নিজের প্রযোজনায় আধুনিক সব টেকনোলোজি ব্যবহার করে সিনেমা করে আসছেন অনন্ত জলিল। সবগুলো সিনেমার তার সঙ্গে স্ত্রী বর্ষা অভিনয় করেছেন। এমনকি একাধিক সিনেমায় অনন্ত জলিল তুর্কি বা আফগানিস্তানের যৌথ প্রযোজনায় কাজ করেছেন।
এই তারকা দম্পতি জুটি অভিনীত ‘দ্য স্পাই’, ‘নেত্রী দ্য লিডার’ সিনেমাগুলো নির্মাণাধীন। যেখানে ভারতীয় নামকরা অভিনেতারা আছেন।
অনন্ত জলিল বলেন, আমাদের হাতের কাছে দুই-তিনটা কাজ আছে। অর্ধেক শেষ, অর্ধেক বাকি কিংবা সত্তর পারসেন্ট শেষ ও কিছু বাকি আছে এগুলো শেষ করে হয়তো… আসল করোনা এবং এরপর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ব্যবসার দিকে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। নইলে এতো বড় কর্মসংস্থান ধ্বংস হয়ে যাবে।









