কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আটক তুহিনের বিরুদ্ধে এবার আরেক যুবকের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুহিন আটকের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগ করেন ২১ বছর বয়সী আসাদুল্লাহ সোহাগ।
সোহাগের দাবি, তুহিন একইভাবে তাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেল নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা করতে তিনি থানায় গেলেও পুলিশ তার অভিযোগটি ফৌজদারি মামলা হিসেবে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার বদলে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে জানান সোহাগ।
সোহাগ আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একজন ব্যক্তির সমর্থন থাকায় তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানানো হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সঙ্গে নিজের অভিযোগের কাগজপত্র, মোটরসাইকেল, তুহিনের ছবি এবং সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদ কার্ডের ছবি যুক্ত করেন সোহাগ। তবে তার এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
মামলাটির তদন্ত নিয়ে রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তদন্তকারীরা অপ্রতিম হত্যা ও উদ্ধার হওয়া আলামত সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাতে পারেন।
কুমিল্লার কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
শনিবার বিকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের কাছে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রথমে ১৯ বছর বয়সী তুহিনকে আটক করা হয়। পরে আনাস নামে আরও এক যুবককে আটক করে পুলিশ।
অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আটক ব্যক্তিদের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে।









