বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলামের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে। অগ্রজ-অনুজ লেখক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করে শোক জানাচ্ছেন।
দেশের পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যমও। পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’ আমীরুল ইসলামের প্রয়াণে প্রকাশ করেছে এক আবেগঘন লেখা।
‘বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকাহত বাংলাদেশ, কিডনির অসুখে ভুগছিলেন’- এই শিরোনামের প্রতিবেদনে তাঁর সাহিত্যকর্ম, গণমাধ্যমে দীর্ঘ পথচলা এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যে অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুকালে আমীরুল ইসলামের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। আধুনিক বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর অবদান নানা মহলে প্রশংসিত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনেও তিনি ছিলেন পরিচিত ও প্রিয় মুখ।
ছোটদের জন্য ছড়া, গল্প ও উপন্যাসসহ দুই শতাধিক বই লিখেছেন আমীরুল ইসলাম। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছড়াগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘খামখেয়ালি’। শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর সৃষ্টিশীল লেখালেখি তাঁকে বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখকে পরিণত করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, সাহিত্যের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় গণমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন আমীরুল ইসলাম। দেশের অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণ ও পরিকল্পনায়ও তাঁর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
‘দ্য ওয়াল’-এর প্রতিবেদনে তাঁর অন্যান্য পরিচয়ও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’-এর প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক ‘আসন্ন’-এর সম্পাদক হিসেবে প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করেন আমীরুল ইসলাম। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার ছোটদের জন্য প্রকাশিত প্রথম চার রঙের কিশোর পাতারও সম্পাদক ছিলেন তিনি। প্রায় পাঁচ বছর সেই দায়িত্ব পালন করে শিশু-কিশোরদের পাঠাভ্যাস ও সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য সরকারি-বেসরকারি নানা সম্মাননাও পেয়েছেন এই শিশুসাহিত্যিক।









