ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দুর্লভ দলিল সংরক্ষণে কাজ করা দেশের অন্যতম বৃহৎ অনলাইনভিত্তিক সংগ্রহশালা ও ইতিহাসচর্চার প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ আজ তাদের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। ব্যক্তি উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান এক দশকে দেশের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
২০১৬ সালের ১৬ জুলাই ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার সন্তান, সংগ্রাহক, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা গিরিধর দে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার দুষ্প্রাপ্য ছবি ও পেপার কাটিং নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন। তথ্যবিকৃতি রোধ এবং ইতিহাসভিত্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যোগ বর্তমানে দেশের ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে।
শৈশবে বাবা সুধীর কুমার দে’র অনুপ্রেরণায় পুরোনো ছবি, পত্রিকার কাটিং ও এন্টিক সংগ্রহের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় গিরিধর দে’র। সেই আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে একটি বৃহৎ সংগ্রহশালা। দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র ও দলিলের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বিবর্তনের নানা অধ্যায় তুলে ধরাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি দুষ্প্রাপ্য ছবি, দলিল ও ঐতিহাসিক তথ্য। পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিনামূল্যে তথ্য, ছবি, ভিডিও, দলিল-দস্তাবেজ ও পত্রিকার সংরক্ষিত উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া গবেষণা সহায়তা, হারিয়ে যাওয়া স্বজন বা বন্ধুদের খুঁজে পেতে তথ্যগত সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিজিটাল সংরক্ষণের পাশাপাশি ইতিহাসচর্চা প্রসার, গুজব ও তথ্যবিকৃতি প্রতিরোধ এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করছে ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বেচ্ছাসেবী কন্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে নিয়মিত নতুন তথ্য ও ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ।
প্রতি মাসে তাদের অনলাইন কনটেন্ট কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিবন্ধিত সদস্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে সহজেই তাদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারেন। স্বেচ্ছাশ্রমে ইতিহাস সংরক্ষণ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই প্লাটফর্ম ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছে।
এক দশকের এই পথচলায় ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।









