চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • আরও
    • কর্পোরেট নিউজ
    • কৃষি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • মতামত
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

যেখানে আকাশ নেমে আসে জলে, টাঙ্গুয়ার হাওরে জলভ্রমণ

চিররঞ্জন সরকার by চিররঞ্জন সরকার
11:43 পূর্বাহ্ন 15, সেপ্টেম্বর 2026
in লাইফস্টাইল
A A
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কিছু ভ্রমণ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু শেষ হয় না। ফিরে আসার পরও তারা মনের ভেতর কোথাও চলতে থাকে কখনো জলের শব্দ হয়ে, কখনো দূরের পাহাড়ের নীল রেখা হয়ে, কখনো বন্ধুদের হাসির প্রতিধ্বনি হয়ে। টাঙ্গুয়ার হাওরে আমাদের নয়জনের দুদিনের সফর তেমনই একটি ভ্রমণ। ঢাকায় ফিরে এসেছি ঠিকই, কিন্তু মনে হয়, মনটা এখনো কোথাও একটি নৌকার ছইয়ের নিচে বসে আছে; চারপাশে জল, মাথার ওপর আকাশ, আর দূরে মেঘালয়ের পাহাড়।

টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রথম দেখার অনুভূতি আসলে ভাষায় পুরোপুরি ধরা যায় না। এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে হিজল-করচের বন, মাঝখানে দিগন্তজোড়া জলরাশি। বর্ষায় যখন আকাশ, মেঘ আর পানি একাকার হয়ে যায়, তখন মনে হয়, পৃথিবী যেন নিজের হাতে একটি বিশাল জলরঙের ছবি এঁকেছে। সেই ছবির কোথাও কোনো ফ্রেম নেই, সীমানা নেই শুধু জল, আকাশ আর দূরের নীলাভ পাহাড়।

এই হাওর শুধু সৌন্দর্যের নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেশব্যবস্থারও নাম। মাছ, পাখি, জলজ উদ্ভিদ এবং হাওরপারের মানুষের জীবন-জীবিকা এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। শীতে এখানে আসে অতিথি পাখি, বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি হয়ে ওঠে এক অনন্ত জলভূমি। সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, ভাসমান মেঘ, রাতের তারা প্রকৃতি এখানে যেন প্রতিদিন নতুন করে নিজের প্রদর্শনী সাজায়।

তবে সৌন্দর্যের সঙ্গে বিপদও আছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে হাউসবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌযান, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, জেনারেটরের ব্যবহার, প্লাস্টিক ও নানা ধরনের বর্জ্য। প্রকৃতিকে দেখতে গিয়ে আমরা যেন অজান্তেই প্রকৃতির ওপর চাপ তৈরি করছি। তাকে ভালোবাসতে হলে তার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তার অস্তিত্বটুকুও রক্ষা করতে হবে।

এসব অবশ্য আমাদের মাথায় ছিল। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, ভ্রমণের মুহূর্তে পরিবেশ-রক্ষার চেয়ে আমাদের বড় চিন্তা ছিল দুদিনের জন্য ঢাকার পরিচিত জীবন থেকে একটু দূরে যাওয়া, গল্প করা, হাসাহাসি করা এবং কিছু স্মৃতি জমিয়ে রাখা। আমাদের দলটিও কম বিচিত্র নয়।

ডা. হরিপদ সরকার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর স্ত্রী আমাদের ‘শিলা বৌদি’ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। আমার স্ত্রী ববি ছবি তোলেন এমন নিষ্ঠার সঙ্গে, যেন ক্যামেরা নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব তাঁর হাতে। নাজিয়া জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। জীনাত কয়েক বছর ইউনিসেফের সদর দপ্তরে কাজ করে দেশে ফিরেছে।

পরিমল স্বভাবতই কম কথা বলে; কিন্তু যখন বলে, তখন এমন একটি বাক্য ছুড়ে দেয় যে সবাই তর্কে জড়িয়ে পড়ে, আর সে এক পাশে বসে সেই তর্কের আনন্দ নেয়। নীনা আপা যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং ভালো গান করেন যদিও তাঁকে দিয়ে গান গাওয়ানো আমাদের দলের সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর ত্রিদিব আয়োজক, গাইড, সময়রক্ষক, গায়ক এবং প্রয়োজনে উদ্ধারকারী। এক কথায়, নয়জনের ভ্রমণে দশজনের কাজ করে সে।
রাত ১১টায় মহাখালী থেকে এনা পরিবহনের এসি বাসে আমাদের যাত্রা শুরু হলো।

এসি বাস মানেই যে আরামদায়ক যাত্রা, সেদিন সেই ধারণারও কিছুটা সংস্কার হলো। রাস্তার গর্তে বাস যখন লাফিয়ে উঠছিল, মনে হচ্ছিল আমরা সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছি না, কোনো অজানা গ্রহে অবতরণের মহড়া দিচ্ছি। তবু শুরুতে কারও কোনো অভিযোগ নেই। ভ্রমণের শুরুতে মানুষের শরীরে অদ্ভুত এক উচ্ছ্বাস থাকে। রাত বারোটায় যে মানুষটি সাধারণত ঘুমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, তিনিই ঘোষণা করেন, ‘আজ কিন্তু কেউ ঘুমাব না।’

তারপর গল্প। গল্প থেকে গল্প, স্মৃতি থেকে স্মৃতি। মাঝেমধ্যে অন্য যাত্রীরা আমাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তাঁদের চোখে হয়তো প্রশ্ন এরা কি সুনামগঞ্জ যাচ্ছে, নাকি কোনো জাতীয় সম্মেলনে?

রাত যত গভীর হলো, আমাদের বিপ্লব তত নিস্তেজ হয়ে এল। একসময় যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকাল ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ। রাতভর ঝাঁকুনির পর বাস থেকে নামার অনুভূতিটা ছিল দীর্ঘ বন্দিত্বের পর মুক্ত বাতাসে দাঁড়ানোর মতো। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের গেস্ট হাউজে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম। তারপর টেম্পু ভাড়া করে তাহিরপুরের পথে।

সেপ্টেম্বরের রোদ সেদিন আমাদের প্রতি বিশেষ সদয় ছিল না। বরং মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি তার আগুনের ভাণ্ডার খুলে বসেছে। আমরা ভ্রমণে বেরিয়েছি, আর সূর্য যেন আমাদের সহনশীলতা পরীক্ষা করছে।

তবু পথের সৌন্দর্য ক্রমে গরমকে ভুলিয়ে দিল। শহর পিছিয়ে গেল। সামনে সবুজের বিস্তার, দূরে জল, আরও দূরে পাহাড়। কেউ ছবি তুলল, কেউ ভিডিও করল। আর প্রায় প্রত্যেক সুন্দর দৃশ্যের সামনে উচ্চারিত হলো সেই সর্বজনীন শব্দ ‘আহা!’

‘আহা’ পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত নান্দনিক ভাষা। এর জন্য ব্যাকরণ লাগে না, অভিধান লাগে না।
অবশেষে নৌকায় উঠলাম। ভেবেছিলাম, এবার বুঝি বাতাসের রাজ্যে প্রবেশ করব। কিন্তু চারদিকে দমবন্ধ করা গরম। টাঙ্গুয়ার সৌন্দর্যের চেয়ে তখন বাতাসের সন্ধানই বেশি জরুরি মনে হচ্ছিল।

কিন্তু নৌকা যখন হাওরের মূল জলে ঢুকে গেল, হঠাৎ যেন দৃশ্যপট বদলে গেল। সামনে শুধু জল। জলের ওপর আকাশ। দূরে পাহাড়। কোথাও হিজল-করচের সবুজ, কোথাও পাখির উড়ান। বাতাস পানির গায়ে আঙুল বুলিয়ে ছোট ছোট ঢেউ তুলছে। আমরা চুপ হয়ে গেলাম।

কিছু দৃশ্য আছে, যেগুলো মানুষকে কথা বলতে দেয় না। মনে হলো, এতদিন প্রকৃতিকে ছবিতে দেখেছি। আজ প্রকৃতি নিজেই আমাদের সামনে একটি বিশাল ছবি হয়ে বসে আছে।

তবে মানুষ যতই প্রকৃতিপ্রেমী হোক, পেটের দাবি অস্বীকার করতে পারে না। নৌকায় খিচুড়ি, ডিম ভুনা, বেগুন ভাজি ও আচার এলো। আমাদের দলের অভিজ্ঞতা বলছে, পেট ভরা থাকলে প্রকৃতির সৌন্দর্যও কিছুটা বাড়ে।
খাওয়ার পর শুরু হলো ছবি তোলার পালা।

একটা ছবি তুলি, আমার একটা ভালো ছবি হয়নি, এই দিকে দাঁড়াও, না, আলো ঠিক আসছে না।

শেষ পর্যন্ত মনে হলো, আমরা টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসিনি; এসেছি একে অপরের ছবি তুলতে।
এর মধ্যেই হরিপদ দা, পরিমল ও ত্রিদিব হাওরের জলে নেমে পড়ল। আমরা বাকিরা তীরে থেকে তাঁদের ছবি তুললাম। বন্ধুত্বেরও বোধহয় স্তরভেদ আছে কেউ পানিতে নামে, কেউ ছবি তোলে।

প্রায় দুপুর তিনটায় পৌঁছালাম টেকেরঘাট। হিজল রিসোর্টের একমাত্র এসি রুমে ঢোকার পর মনে হলো, এসি কোনো যন্ত্র নয় এটি ঈশ্বরের বিশেষ অনুগ্রহ।

দুপুরের খাবারে হাওরের নানা পদের মাছ। সকাল থেকে জমে থাকা গরম, ঘাম, ক্লান্তি আর রাস্তার ঝাঁকুনি সবকিছুর বিরুদ্ধে সেই খাবার ছিল এক ধরনের সুস্বাদু প্রতিষেধক।
বিকেলে নীলাদ্রি লেক।

পুরোনো চুনাপাথরের খনি এলাকার নীল পানি, চারপাশের পাহাড় আর সবুজের সমাহার মনে হয় প্রকৃতি নিজেই কোনো শিল্পীর তুলিতে রঙ মিশিয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে মনে হলো, পৃথিবীকে সুন্দর করার জন্য মানুষের খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই। শুধু কিছু জায়গাকে মানুষের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখাই যথেষ্ট।

বোট ভাড়া করে লেকে ভাসতে ভাসতে দূরের মেঘালয় পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম। পাহাড়ে সার্চলাইটের আলো, তার প্রতিফলন নীল জলে। অন্ধকারের বুকের ওপর কাঁপতে থাকা আলো দেখে মনে হচ্ছিল, আমরা যেন কোনো সিনেমার দৃশ্যের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। রাতে হিজলে ফিরে আবার বাস্তবতা লোডশেডিং।

ভ্যাপসা গরমে আমাদের অবস্থা যখন করুণ, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে নতুন এক সান্ত্বনা পেলাম। তারাভরা আকাশ। ঢাকায় একটি-দুটি তারা দেখতে গেলেও ভবনের আলো, ধোঁয়া আর কৃত্রিম আলোর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। এখানে মনে হলো, তারাগুলোই যেন আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। শহরের আলো নিভে গেলে যে আকাশ এত বড় হয়ে উঠতে পারে, তা ভুলেই গিয়েছিলাম।

পরদিন সকাল সাড়ে ছয়টায় ওঠার কথা। ভ্রমণসূচিতে সময়টি অত্যন্ত সুন্দর। বাস্তবে আমাদের দলের জন্য সাড়ে ছয়টায় ওঠা ছিল সামরিক অভিযান। শেষ পর্যন্ত তৈরি হতে হতে সকাল ৮টা।

চান্দের গাড়িতে রওনা হলাম রাজার ঝিরির দিকে। বাঁশবনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে ঝিরির কাছে পৌঁছেই আবার ছবি তোলার উৎসব। মানুষের আত্মপ্রেমের সবচেয়ে সুন্দর, নিরাপদ ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রকাশ বোধহয় ভ্রমণের ছবি।

এরপর সাদাপাথর হয়ে লাকমা ছড়া। মেঘালয় পাহাড়ের কোলে লাকমা গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে নেমে এসেছে পাহাড়ি ঝিরি। পাথরের গায়ে স্বচ্ছ জল ছুটে যাচ্ছে। পাতার ফাঁক দিয়ে আলো এসে পড়ছে। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও পাতার মৃদু শব্দ। মেঘালয় পাহাড় এত কাছে যে মনে হয়, হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যাবে।
লাকমাছড়ার ঠাণ্ডা জলে পা ডুবিয়ে রইলাম অনেকক্ষণ।

শহরের মানুষ তখন বুঝতে পারে, নীরবতারও একটি নিজস্ব ভাষা আছে। অবশ্য আমাদের দলের কেউ ধ্যান করল না। সবাই ছবি তুলল।

ডাব খেয়ে রিসোর্টে ফিরলাম। নাস্তা, বিশ্রাম, দুপুরের খাবার। তারপর ব্যাগ গুছিয়ে আবার নৌকায়।
এবার হাওরের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা একটু বদলে গেছে। প্রথম দিনের বিস্ময় কমেছে, কিন্তু মায়া বেড়েছে। মনে হলো, এই জলরাশি যেন এখন আর নিছক একটি দর্শনীয় স্থান নয়; বরং অল্প সময়ের পরিচিত এক বন্ধু।
হাওরের জলে তখন শত শত নৌকা। হাজার হাজার মানুষ বেড়াতে এসেছে। আনন্দের দৃশ্য, কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে লাগল এই হাওর কতদিন এই চাপ সহ্য করতে পারবে?

এত মানুষের মলমূত্র, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, প্লাস্টিক, জেনারেটরের শব্দ, নৌকার ইঞ্জিন সব মিলিয়ে এই জলাভূমির স্বাভাবিক জীবন কতদিন অক্ষত থাকবে?

আমরা প্রকৃতির কাছে যাই সৌন্দর্য দেখতে। অথচ আমাদের উপস্থিতিই যদি সেই সৌন্দর্য নষ্ট করে, তাহলে একদিন হয়তো পর্যটন থাকবে, পর্যটক থাকবে, কিন্তু টাঙ্গুয়ার সেই টাঙ্গুয়া থাকবে না।

তাই এখনই ভাবতে হবে কীভাবে প্রকৃতিকে অক্ষত রেখে পর্যটন বাড়ানো যায়। পাহাড়, হাওর, নদী, সমুদ্র এসবকে শুধু ভোগের বস্তু হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল না হলে একদিন সে প্রতিশোধ নেবে শব্দ করে নয়, নীরবে সরে গিয়ে। আর হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতি কোনো অর্থে কেনা যায় না।
এসব ভাবতে ভাবতেই বিকেল নেমে এলো।

জলের ওপর সূর্যের শেষ আলো পড়ল। মনে হলো, দিনের শেষ অধ্যায়টি প্রকৃতি নিজেই লিখছে। আকাশে রঙ বদলাচ্ছে, জলেও তার প্রতিফলন। দূরের পাহাড় ক্রমে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। বিকাল ৫টার দিকে তাহিরপুর। তারপর সুনামগঞ্জ। তারপর ঢাকার বাস।

ফেরার বাসে প্রথম রাতের সেই হৈচৈ নেই। সবাই ক্লান্ত। কেউ মোবাইলে ছবি দেখছে, কেউ জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে, কেউ চোখ বন্ধ করে আছে। মাঝে মাঝে কেউ ছবি দেখিয়ে বলছে, ‘এইটা ভালো হয়েছে।’
সারারাস্তায় জ্যাম। গাড়ি চলছে শম্বুকগতিতে। সকাল ৬টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। পৌঁছালাম সকাল ১০টায়।

ঢাকায় নেমে আবার সেই পরিচিত পৃথিবী যানজট, হর্ন, ধোঁয়া, ফোন, কাজ, ব্যস্ততা। শরীর ঢাকায় ফিরল। মন ফিরল না।

মন পড়ে রইল টাঙ্গুয়ার জলে, নীলাদ্রির নীল পানিতে, লাকমাছড়ার ঠাণ্ডা স্রোতে, মেঘালয়ের পাহাড়ের নীল রেখায় আর সেই তারাভরা রাতের নিচে।

শেষ পর্যন্ত বুঝলাম, ভ্রমণ শুধু কোনো জায়গা দেখার নাম নয়। ভ্রমণ মানুষকে মানুষকেও নতুন করে দেখতে শেখায়। এই সফরে আমরা হাওর, পাহাড়, নদী ও ছড়া দেখেছি; কিন্তু তার চেয়েও বেশি দেখেছি নিজেদের বন্ধু হিসেবে, সহযাত্রী হিসেবে, কখনো শিশু হয়ে, কখনো গাইড, কখনো ফটোগ্রাফার, কখনো গায়ক, আবার কখনো নিছক আড্ডাবাজ হয়ে।

জীবনের সবচেয়ে দামি স্মৃতিগুলো অনেক সময় বড় কোনো ঘটনার সঙ্গে আসে না। আসে কিছু মানুষকে নিয়ে কোথাও চলে গেলে। আসে একসঙ্গে হাসলে। আসে জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকলে। আসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরলে।

তারপর বহুদিন পর কোনো এক অলস বিকেলে হঠাৎ মনে পড়ে একবার তো আমরা নয়জন জলের দেশে গিয়েছিলাম।

সেদিন হয়তো আবার মনে হবে, টাঙ্গুয়ার হাওর আসলে শুধু একটি জায়গার নাম নয়। এটি কিছু মানুষের একসঙ্গে কাটানো সময়ের নাম।

কিছু হাসি, কিছু গল্প, কিছু ছবি, কিছু ক্লান্তি, কিছু বিস্ময় আর এমন এক স্মৃতি, যা সময় যত যাবে, ততই আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। কারণ কিছু ভ্রমণ শেষ হয় পথে। আর কিছু ভ্রমণ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মনের ভেতর।

 

Tags: জলটাঙ্গুয়ার হাওর
Previous Post

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ার দায় ইউক্রেনের ওপর চাপাচ্ছেন ট্রাম্প

Next Post

এই তাহলে ম্যানচেস্টার ডার্বির দুই ভিএআর রেফারির শাস্তির কারণ

Next Post

এই তাহলে ম্যানচেস্টার ডার্বির দুই ভিএআর রেফারির শাস্তির কারণ

ছবি: সংগৃহীত

তাহসিন জাহানের অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানে সহপাঠী পদ্য আলম কী বলছেন?

সর্বশেষ

জেমসের নতুন গানের পরিবেশনা, মঞ্চে গিটার ও মাইক্রোফোন হাতে শিল্পী. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ঘর ছেড়ে আজিজ বোর্ডিং, সংগীতে আজও অপ্রতিরোধ্য জেমস

অক্টোবর 2, 2026

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে, কোথায়

অক্টোবর 2, 2026
প্রাকৃতিক পরিবেশে মিথিলা সুন্দরভাবে ছবি তুলেছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

মিথিলার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন

অক্টোবর 2, 2026

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজ চলছে: মাহদী আমিন

অক্টোবর 1, 2026

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু কবে, জানাল আইসিসি

অক্টোবর 1, 2026
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
info@channelionline.com
online@channeli.tv (Online)
news@channeli.tv (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT