জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গত ৪৬ বছরে সারা দেশে ১৩ কোটির বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেছে বেসরকারি খাত-সমর্থিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘বনায়ন’। পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি বছর আরও ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা করেছে তারা।
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বাড়তে থাকায় বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বও বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় দেশের পরিবেশগত সহনশীলতা ও জলবায়ু মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে বনায়নের দীর্ঘমেয়াদি এ উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা বনায়ন বর্তমানে সারা দেশে ১৯টি নার্সারির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব নার্সারিতে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়।
বনায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ৭০:৩০ প্রজাতি বিন্যাস কৌশল। এতে দ্রুতবর্ধনশীল বনজ প্রজাতির পাশাপাশি দেশীয় ও ঔষধি গাছকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে, বিভিন্ন সামাজিক ও জনসমাগমস্থলে এবং পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় এসব চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ করা হয়।
গত ৪৬ বছরে কর্মসূচিটি দেশের কৃষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছে। একই সময়ে ১১৯টি ঔষধি উদ্ভিদবাগান প্রতিষ্ঠা করেছে বনায়ন। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ঔষধি উদ্ভিদ সম্পর্কে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখা হচ্ছে।
বনায়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু চারা বিতরণ নয়, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা গড়ে তোলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে কর্মসূচিটি।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বনায়ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা পেয়েছে। এর মধ্যে পাঁচবার বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন অন্যতম উল্লেখযোগ্য।
বনায়নের মুখপাত্র আহমেদ রায়হান আহসানউল্লাহ বলেন, ‘বনায়নের ৪৬ বছরের পথচলা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি এটি আমাদের জন্য একটি চলমান দায়িত্বও। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হওয়ায় বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব এখন সবচেয়ে বেশি।’
তিনি বলেন, ‘গত ৪৬ বছর ধরে বনায়ন সারা দেশে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করে আসছে। চলতি বছর আমরা দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা করেছি, যা দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরও সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।









