বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার কর্তৃক নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সংকট তৈরির প্রেক্ষাপটে ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে জোরেশোরে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের দীর্ঘ ১১ মাস পর এক পর্যায়ে সেই সরকার ২০০৮ সালের ১১ জুন শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীকালে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে স্লো-পয়জনিং এবং কারাগারে থাকাকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা না করিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ করেছেন। সেই দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকালে আমরা অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দ্বারা দেশকে বিরাজনীতিকরণের এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের কালো দিক দেখতে পাই। ক্ষমতায় এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে গুরুদায়িত্ব তাদের ছিল সেই পথ থেকে দূরে সরে তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার দিকে হেঁটেছে। জরুরি আইন জারির মাধ্যমে ঘরোয়া রাজনীতিকেও তারা নিষিদ্ধ করেছিল। উদ্দেশ্য পরিস্কার। সাংবিধানিক সময়সীমার বদলে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার জন্য জন্য তারা এসব করেছে। ৯০’র দশক থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অদূরদর্শিতায় অতিষ্ঠ জনগণ শুরুতে সেই অগণতান্ত্রিক সরকারের তথাকথিত দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণাকে স্বাগত জানালেও পরে এর কুফল বুঝতে পেরে তাদের ওপর থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। যার কারণে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনীতিবিদকে তারা মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে গণতান্ত্রিক রাজনীতি ছাড়া দেশ পরিচালনা এবং দেশের উন্নয়নে অন্য কোন বিকল্প নেই। আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার কারণেই তৎকালীন এই সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনীতিবিদরা এমন শিক্ষা পাওয়ার পরও বিষয়টি পুরোপুরি ধারণ করতে পেরেছে বলে আমাদের মনে হয় না। তারপরও মনে রাখতে হবে, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে সবশেষে গণতান্ত্রিক রাজনীতি ছাড়া আর কোন পথ নেই। তাই ভবিষ্যতে এমন সংকট সৃষ্টির ফলে কোন অগণতান্ত্রিক শক্তি যাতে দেশকে আর বিরাজনীতিকরণের দিকে ঠেলে দিতে না পারে সেজন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে।









