ময়মনসিংহে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে যান। এ সময় তারা বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। পরে টিনগুলো খুলে বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। তবে ভাঙচুরের আগেই আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরে যায়। একই সঙ্গে ঘরের মালামালও সরিয়ে রাখা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ বলেন, প্রধান আসামি শরীফের বাড়ি ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এমন ন্যক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় পাঁচ যুবক ওই প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে গিয়ে তার ১৪ বছর বয়সী ছেলের (নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী) কাছে পানি চান। ওই কিশোর পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে যুবকেরা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ঘরে প্রবেশ করে তারা। অস্ত্রের মুখে পরিবারের নারী সদস্যকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। এরপর ওই নারীকে তার ছেলের সামনে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার রাতে ধর্ষণের শিকার নারী বাদী হয়ে চর কালিবাড়ি এলাকার শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুলের (২২) নাম উল্লেখ করে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে চরআলগী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগনের ব্যানারে ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন অভিযুক্তদের একজন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আসামি রাজিবকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’









