জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বিমানটির অবস্থান নিয়ে বাধা দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান ‘উইং অব জিওন’ সাধারণত জেএফকে বিমানবন্দরে রাখা হয়। তবে এবার নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কিংবা নিউ জার্সির কাছাকাছি কোনো সামরিক বিমানঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর বিমান জেএফকেতে রাখা হলে মামদানি সেটি সফর শেষ হওয়ার আগেই সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারেন। সে কারণে নিউ জার্সিতে বিমান রাখাকে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সুবিধাজনক মনে করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর সফরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও অস্বাভাবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন মামদানি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবেন। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নেই।
মামদানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে আয়োজিত কোনো বিক্ষোভে তিনি নিজে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ঘিরে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক পুলিশ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু মামদানির অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর পরও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি তিনি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন। নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর একই দিন সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার তার সফর আগের তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং নিউইয়র্কে রাতযাপন করবেন না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। টেক্সাসে ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি বৈঠকের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের আশপাশে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন একাধিক বিক্ষোভের প্রস্তুতি রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহিংসতা ও আইন ভঙ্গ ঠেকাতে তারা প্রস্তুত থাকবে।
নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানের হুমকি প্রধান গুরুত্ব পেতে পারে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকক্ষে সম্ভাব্য ওয়াকআউট বা প্রতিবাদের বিষয়েও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুক্কোট শুরুর আগেই নেতানিয়াহুর ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।









