অন্যের সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা ভালো থাকা দেখে নিজের ভেতর অস্বস্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক অনুভূতি হতে পারে। কিন্তু সেই অস্বস্তি যদি অন্যের নিয়ামত নষ্ট হয়ে যাক এমন আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়, ইসলামে তা হাসাদ বা হিংসা হিসেবে বিবেচিত। কোরআন ও হাদিসে হিংসা থেকে দূরে থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
হিংসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয়
পবিত্র কোরআনের শেষের দিকের একটি সূরা হলো সূরা আল-ফালাক। এই সূরায় বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,
“আর হিংসুক যখন হিংসা করে, তখন তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”
—সূরা আল-ফালাক, ১১৩:৫
অর্থাৎ হিংসার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
অন্যের পাওয়া নিয়ে আফসোস নয়
মানুষের জীবন, সুযোগ ও নিয়ামত এক রকম নয়। কারও সম্পদ বেশি, কারও জ্ঞান বেশি, কেউ আবার অন্য কোনো ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারেন। এসব দেখে নিজের জীবনের প্রতি অসন্তুষ্ট না হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম।
কোরআনে বলা হয়েছে,
“আল্লাহ যার মাধ্যমে তোমাদের কাউকে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তোমরা তার আকাঙ্ক্ষা করো না।”
—সূরা আন-নিসা, ৪:৩২
এর অর্থ অন্যের ভালো কিছু দেখে নিজের জন্যও ভালো কিছু চাওয়া নিষিদ্ধ নয়, বরং অন্যের পাওয়া নষ্ট হয়ে যাক—এমন মনোভাব থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
হিংসা আর ভালো প্রতিযোগিতা এক নয়
কারও ভালো দেখে নিজেও তেমন ভালো কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করা হিংসা নয়। বরং ভালো কাজে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুই ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষা করা যায় একজন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে তা সৎ পথে ব্যয় করে, আরেকজন, যাকে আল্লাহ জ্ঞান দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।
—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
এখানে অন্যের নিয়ামত নষ্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং ভালো কাজে তার মতো হওয়ার ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে।
হিংসা থেকে বাঁচবেন কীভাবে
নিজের নিয়ামত মনে করুন: অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা না করে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা জরুরি।
অন্যের জন্য দোয়া করুন: কারও সাফল্য দেখে মনে নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হলে তার জন্য কল্যাণের দোয়া করা যেতে পারে।
তুলনা কমান: বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবনের নির্বাচিত কিছু মুহূর্ত দেখে নিজের পুরো জীবনের সঙ্গে তুলনা করলে অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে।
নিজের উন্নতিতে মন দিন: অন্যের কী আছে, সেটি নিয়ে চিন্তা না করে নিজের দায়িত্ব, কাজ ও আমলের দিকে মনোযোগ দেওয়া ভালো।
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান: হিংসা বা অন্য কোনো অনিষ্টের ভয় হলে সূরা আল-ফালাক পড়া এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া যেতে পারে।
অন্যের ভালো চাওয়ার শিক্ষা
ইসলাম একজন মুমিনকে শুধু হিংসা থেকে দূরে থাকতে বলেনি; বরং অন্যের জন্যও কল্যাণ কামনা করতে শিখিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তা ভালোবাসে।”
—সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
অন্যের সাফল্য দেখে কষ্ট পাওয়ার বদলে তার জন্য কল্যাণ কামনা করা এবং নিজের জন্যও আল্লাহর কাছে হালাল ও উত্তম নিয়ামত চাওয়া এটাই হতে পারে হিংসা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুন্দর পথ।









