এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রীকে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনার (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
এসআরবি জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে শাহ আলী থানার চিলড্রেন পার্ক এলাকার পানির পাম্পসংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় স্ত্রীকে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর পালিয়ে যান মনিরুল। ঘটনার পরপরই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এসআরবি।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মনিরুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এসআরবি-৪-এর একটি দল তেজগাঁও থানার কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত নারীর প্রথম স্বামী প্রায় ১৪ বছর আগে মারা যান। এরপর প্রায় ছয় মাস আগে মনিরুল ইসলামকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর কিছুদিন তারা রাজধানীর বনানী এলাকায় বসবাস করেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে তারা শাহ আলী থানার চিলড্রেন পার্ক পানির পাম্পের পাশে একটি টিনশেড বাসা ভাড়া নেন।
এসআরবি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিহত নারী গ্রামের বাড়িতে জমি বন্ধক রেখে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। ওই টাকা নেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতেন মনিরুল। টাকা দেওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নারীকে নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেছে এসআরবি।
লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। একপর্যায়ে ওই নারী মনিরুলের অণ্ডকোষ চেপে ধরেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তখন কাছে থাকা একটি চাকু দিয়ে মনিরুল তার স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানায় এসআরবি।
হত্যার পর মনিরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।









