তরুণ চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সামাজিকমাধ্যমে এই নির্মাতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন শিহাব শাহীন।
নাটকের জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন ফেসবুকে লিখেন,“আমাদের সহকর্মী চিত্রনাট্যকার-পরিচালক মারুফ হোসেন সজীব ভোর রাত ৫ টায় মারা গেছেন। নিজ বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ মারা যান তিনি।”
তিনি জানান, বছর চল্লিশের সজিব বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন। গত জানুয়ারিতে তার ওপেন-হার্ট সার্জারি হয়েছিল। তরুণ সহকর্মীর মৃত্যুতে আমরা সবাই প্রচণ্ড শোকাহত। আমরা তার পরিবারের পাশে দাঁড়াবো।
গুণী অভিনেতা রওনক হাসান লিখেন, “প্রিয় সজীব, ভালো থেকো। এই হঠাৎ প্রস্থান মেনে নেয়া ভীষণ কষ্টের! হায় নিয়তি!”
জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব লিখেন,“আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন একটা খারাপ খবর পাব, সত্যি বলতে একদমই আশা করিনি। নিউজটা পাওয়ার পর কীভাবে প্রসেস করব, সেটাই বুঝতে আমার প্রায় পনেরো–বিশ মিনিট লেগে গেছে। অনেকক্ষণ থমকে ছিলাম। এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে মারুফ হোসেন সজীবভাই আর আমাদের মাঝে নেই।”
স্মৃতিচারণ করে এই অভিনেতা বলেন,“সেদিনই তো কথা হলো। সামনে কাজ হবে, দেখা হবে, কত স্বাভাবিক কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল আমাদের কথায়। অথচ জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, কতটা ছোট, মৃত্যু আবারও খুব নির্মমভাবে সেটা মনে করিয়ে দিল। আমরা প্রতিদিন কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আগামীকাল কী করব, পরের সপ্তাহে কোথায় যাব, কার সঙ্গে দেখা হবে, এসব নিয়েই আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা। অথচ কখন যে কার জীবনের শেষ দিন, সেটা আমরা কেউ জানি না।”
অভিনেত্রী রিমু রোজা খন্দকার লিখেন,“সজীব একবার আমাকে বলেছিল, ‘আপু, আপনাকে মানুষ এত টাইপকাস্ট করে ফেলেছে! আমি আপনাকে একটা ভালো ক্যারেক্টার দেবো। সেই ক্যারেক্টারের সন্ধানেই আছি।’ সজীব, তাহলে তোমার সেই কাজটা আর হলোই না রে ভাই।”
“আমার বায়োগ্রাফিতে তোমার নির্মাণে একটা কাজের নামও থাকল না, এটা কী করে হয় বলো? এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। খুব অবিশ্বাস্য লাগছে।” লিখেন রিমু।
অভিনেত্রী তানজিন তিশা লিখেন,“ভাইয়া আপনি ফোন দিয়ে বললেন, ‘কতদিন দেখা নেই আপু, কত গল্প জমে আছে! সুন্দর সুন্দর গল্প করতে হবে আপু আমাদের। খুব তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্টে এসে দেখা করব’। দেখে গেলেন না ভাইয়া? গল্পগুলো বলে গেলেন না? গল্পগুলো না বলেই চলে গেলেন?”
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল লিখেন,“সেইদিনই দেখা করে গেলেন। আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলেন, বললেন আমরা একসাথে সুন্দর গল্প করব। কালকেই ভাবছিলাম আপনার কথা। জীবন কি অনিশ্চিত ভাইয়া।”
গতকালই দেখা হয়েছে জানিয়ে স্মৃতিচারণ করে নির্মাতা সেরনিয়াবাত শাওন লিখেন,“দাদু,গতকালই বললেন-‘চলেন দাদু কাল/ পরশু ঢাকার বাইরে ঘুরে আসি…!’ সব সময় তাল বাহানা করলেও গতকাল একবাক্যেই বললাম -‘চলেন দাদু’! বাসায় যাওয়ার সময় কন্যার জন্য একটা সুন্দর জামাও কিনে নিলেন। বাইকে বসে বিদায় নিলেন আজ দেখা হবে বলে…কখনো ভাবিনি এটাই শেষ দেখা…ও দাদু…!”
জানা গেছে, পরিচালক ও নাট্যকার মারুফ হোসেন সজীবকে রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর একই কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় নির্মাতা, অভিনয়শিল্পীসহ তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা প্রয়াত সজীবের স্মৃতিচারণ করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।









