গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক এক বোর্ড পরিচালকসহ তিনজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট)। এবরি নিজেদের তদন্ত প্রক্রিয়া ও স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে স্বাধীন তদন্ত সংস্থাটি।
আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয় তাদের বিরূদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক বিসিবি পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান শামীম, সাবেক সিকিউরিটি লিয়াঁজো অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকেই প্রোভিশনাল সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে শনিবার বিস্তারিত কথা বলেছেন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তিনি জানান, কোনো অভিযোগ পেলেই সরাসরি তদন্ত শুরু করা হয় না। প্রথমে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর প্রয়োজন হলে তদন্ত শুরু করা হয়।
মার্শাল বলেন, ‘তদন্ত কাজ কীভাবে করে তা আমি জানাচ্ছি। শুরুতে আমরা একটি ইস্যু গ্রহণ করি। ধরুন, কোনো ক্রিকেটার বললো যে, কেউ আমাকে বলেছে খারাপ খেলতে। এর বিনিময়ে তারা আমাকে টাকা দেবে। এটাই ফিক্স করার প্রথম ধাপ। ম্যানেজার, কোচ কিংবা সাংবাদিকদের কাছেও তথ্য থাকলে, তারা ইউনিটকে এটা জানায়। আইসিসিও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে কিছু দেখতে পেলে সেগুলোর তথ্য বিসিবির কাছে পাঠিয়ে দেয়। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ব্যাপারে দায়িত্বশীল।’
তদন্তের ক্ষেত্রে ইউনিটের স্বাধীনতার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন মার্শাল। তার দাবি, কাউকে তদন্ত করতে হবে বা কীভাবে তদন্ত করতে হবে, সে বিষয়ে বাইরে থেকে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয় না।
বলেছেন, ‘আমার একটা ইউনিট আছে। আমার সঙ্গে বাংলাদেশি লোকজন আছে। সভাপতির কাছে আমি রিপোর্ট করি। আমার কাজ একেবারেই স্বাধীন এবং গোপনীয়। কেউ এসে আমাকে কিছু বলতে পারে না যে, কীভাবে তদন্ত করতে হবে, কাকে নিয়ে তদন্ত করতে হবে। তবে দিনশেষে তদন্ত শেষে জেনারেল কাউন্সিল সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে জানায় কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে কিনা।’
ফিক্সিং ও দুর্নীতির বিষয়গুলো পরিষ্কার করাও নিজের দায়িত্বের অংশ বলে জানিয়েছেন মার্শাল। বলেছেন, ‘আমি চেয়েছি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে যেন ফিক্সিং এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিষ্কার করে জানাতে পারি। ফিক্সিং, অ্যান্টি করাপশন ইউনিট কোড এসবই আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমি স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে কাজ করছি।’









