একটা ক্লাবের উত্থান, দ্বিতীয় স্তর থেকে লড়ে প্রথম স্তরে, সেখান থেকে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে এসে অভিষেক ম্যাচেই জয়। ঘটনা-যাত্রায় ভীষণভাবে জড়িত একজনের অবদান। যেটি ঘটেছে কেবল তিন বছরে। যেখানে ব্যক্তিটির ভূমিকা একবার ছিল দলের খেলোয়াড় হিসেবে, অন্যবার কোচ হয়ে। গল্পটা ইতালিয়ান ক্লাব কোমো এবং স্প্যানিয়ার্ড সেস ফ্যাব্রেগাসের। ক্লাবটির ১১৯ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন এই প্রথম, সেটি ফ্যাব্রেগাসের হাত ধরে।
ফ্যাব্রেগাস, সবাই এক নামে চেনে আর্সেনাল, চেলসি এবং বার্সেলোনার কিংবদন্তি হিসেবে। আরও একটি বড় পরিচয়, তিনি বিশ্বকাপজয়ী। ২০১০ সালে স্পেনের হয়ে জিতেছেন দেশের ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ। এই মুহূর্তে তিনি একটি ক্লাবের অগ্রযাত্রার ইতিহাসেরও অগ্রসৈনিক। যার শুরু ২০২২ সালে। মোনাকো থেকে খেলোয়াড় হিসেবে যখন যোগ দেন কোমোতে।
২০২৩/২৪ মৌসুমে ফ্যাব্রেগাসের অধীনে ইতালির দ্বিতীয় স্তরের লিগ সিরি বি’তে দ্বিতীয় হয় কোমো। প্রায় ২০ বছর পর উন্নতি হয় প্রথম স্তরে। উঠে আসে সিরি আ’তে। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের সেখানেই ইতি টানেন ফ্যাব্রেগাস। তার অবদানে উন্নতির কারণে পরের মৌসুমেই তাকে ক্লাবের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সেটিই তার কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু।
প্রথম মৌসুমেই ইন্টার মিলান, এসি মিলান, জুভেন্টাস, রোমা, আটালান্টা, লাজিও, নাপোলির মতো ইতালির সব শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়ে ফ্যাব্রেগাসের কোমো। ২০২৪/২৫ মৌসুমে ১০ম স্থান অর্জন করে। সেখানে থেমে থাকেনি ইতালির নবাগত শক্তিটি।
পরের মৌসুম ২০২৫/২৬, ফ্যাব্রেগাসের অধীনে কোমো একে একে হারায় জুভেন্টাস, রোমা, লাজিওকে, ড্র করে এসি মিলান, আটালান্টার বিপক্ষে। ওই মৌসুমে কেবল হারাতে পারেনি আসরের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকে। আসর শেষে অনেককে পিছে ফেলে জায়গা করে সেরা চারে। অর্থাৎ, ইতালির সিরি আ’তে যে স্থানটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্লট।
তারপর প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ মেলে। আর এসেই ফ্যাব্রেগাসের শিষ্যরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গড়েছে আরেক ইতিহাস। নিজেদের অভিষেক ম্যাচে জয়। সেটিও আবার যেনতেন না, জার্মান ক্লাব আরবি লেইপজিগকে হারিয়েছে বেশ বড় ব্যবধানে। ৪-১এ জয় নিয়ে শুরু করেছে ইউরোপের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে। চলতি মৌসুমে ইতালির লিগে বেশ ভালো অবস্থায়ই আছে কোমো। ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্র নিয়ে টেবিলের চারে। ফ্যাব্রেগাসের হাতে ক্লাবটির অল্প অংশের মালিকানাও রয়েছে।
কোমোর ইতিহাস বেশ দীর্ঘই। দেউলিয়া হওয়া, মালিকানা বদলানো, বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেছে ক্লাবটি। চতুর্থ স্তর পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। সেগুলো এখন ইতিহাসে অংশ। সবকিছু পেছনে ফেলে ইতালির ক্লাবটি এখন অন্যতম সাফল্যের পথে ছুটে চলেছে, যাতে বিশেষ অবদনা স্পেনের কিংবদন্তি সাবেক সেস ফ্যাব্রেগাসের।









